“বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠী দেশকে নেতিবাচকভাবে প্রচার করতে ব্যস্ত”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠী দেশকে নেতিবাচকভাবে প্রচার করতে বেশি ব্যস্ত। তাদের কিছু পেইড এজেন্ড আছে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচার চালায়।
আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনির্মাণে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশ বিশ্ব সংবাদ হতো যখন কোনো বড় অগ্নিকাণ্ডে অনেক মানুষ মারা যেত, দুর্যোগ হতো, সাইক্লোন হতো। এখন আমাদের দেশ আন্তর্জাতিক শিরোনাম হয় যখন আমাদের দেশের নারীরা ভারতকে হারিয়ে দেয়, নেপালকে হারিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, দেশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক তথ্য তুলে ধরা কিছু মানুষের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এ জন্য তারা ফান্ড জোগাড় করে। আমাদের দেশের কিছু সংবাদমাধ্যম দেখি আমাদের বিরুদ্ধে যদি কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কোনো সংবাদ করে, তাহলে তারা সেটাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে প্রচার করে।
ড. হাছান বলেন, ভাবমূর্তি যদি ভালো না হয় তবে সেই দেশের পক্ষে ব্যবসা করাও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। টুরিজম অনেক দেশের চালিকাশক্তি। দেশের ভাবমূর্তি ভালো না হলে টাকা দিয়েও মানুষকে দেশে আনা যায় না। তাই দেশের ভাবমূর্তি বিনির্মাণে বা ঠিক রাখতে গণমাধ্যমের অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমের দায়িত্ব হচ্ছে সাদাকে সাদা বলা, কালোকে কালো বলা। সাংবাদিকদের অনেক সময় নিজের ইচ্ছা না থাকলেও মালিকপক্ষের ইচ্ছানুযায়ী কাজ করতে হয়। রাজনীতিবিদদের জন্য সাংবাদিকরা সহায়ক। আমি অনেক সময় ভাবি এই মেধাবী সাংবাদিকরা কেন বিসিএস না দিয়ে এই পেশায় নিয়োজিত; তখন মনে হয় একটি পেশাকে ভালোবেসে ফেললে সেখান থেকে বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো সংবাদ প্রচার করার আগে সেটা সত্য কি না, তা বিবেচনা করে তা প্রচার করতে হবে। সেটির ইমপেক্ট কী হবে, সেটিও বিবেচনা করে তা প্রচার করতে হবে। দেশের কোথাও আগুন লাগলে অনেক টেলিভিশন সেটার লাইভ দিতে ব্যস্ত হয়ে যায়। সারাক্ষণ এই লাইভ দেয়ার কারণে আগুনটা সেখান থেকে পুরো ১৭ কোটি মানুষের মনে লেগে যায়। যার নেতিবাচক প্রভাব সুদূরপ্রসারী।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে নির্বাচনের সময় কেউ একজনকে ঘুষি দিলে সেটা নিয়ে যে পরিমাণ মাতামাতি হয়, পার্শ্ববর্তী দেশে তার থেকে অনেক বড় ঘটনা ঘটে গেলেও তেমন মাতামাতি হয় না। পৃথিবীতে অনেক মানবাধিকার সংগঠন রয়েছে যারা তাদের বিভিন্ন প্রতিবেদন তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। কিন্তু সেই ওয়েবসাইট কেউ পড়ে না। আমাদের দেশের কিছু গণমাধ্যম রয়েছে তারা ওই প্রতিবেদনগুলোকে বড় করে প্রচার করে। পরবর্তী সময়ে তা আবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রচার করে।
আরও পড়ুনঃ বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ছে সোনার দাম





