বাজেটে গরিবের জন্য কিছু নেই, শিক্ষা-স্বাস্থ্যে বরাদ্দ কম: রিজভীর ক্ষোভ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাবিত ৭ লক্ষ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে গরিববিরোধী ও মধ্যবিত্তের ওপর চাপ সৃষ্টিকারী বলে সমালোচনা করেছেন। মঙ্গলবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল আয়োজিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে দুস্থদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, “এই বাজেটে প্রশাসনের বেতনের জন্য ২৩ শতাংশের বেশি এবং ঋণের সুদ পরিশোধে ১৪ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তাহলে গরিব মানুষের জন্য কী আছে? শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ কম থাকলে জনগণের কল্যাণ কীভাবে হবে?” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “১৫ বছরের আন্দোলন, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। কিন্তু এই বাজেটে তাদের সেই ত্যাগের মূল্যায়ন নেই।”
তিনি আরও বলেন, “এই বাজেট গরিবকে আরও গরিব করবে এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের ওপর চাপ বাড়াবে। আমরা চাই দেশ ভালো চলুক, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক, যাতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়।”
বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘জিয়াউর রহমানকে শুধু নেতা বললে হবে না, তিনি যুগ সৃষ্টিকারী নেতা। জনগণ তাকে নাম দিয়েছে ‘রাখাল রাজা’। তিনি মাইলের পর মাইল হেঁটে জনগণের দুর্দশা উপলব্ধি করেছেন। তিনি অনেক ভালো ভালো কর্মসূচি নিয়েছেন। জিয়াউর রহমান জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান এমন সময় ক্ষমতায় এসেছেন একদিকে রাজনৈতিক সংকট এবং অন্যদিকে অর্থনৈতিক সংকট। ৭৪ এর দুর্ভিক্ষের সময় ক্ষুধা-দারিদ্র্যে মানুষ এক মুঠো ভাত পায়নি। এসকল বিপর্যয়কর পরিস্থিতির পরে তিনি ক্ষমতায় এসেছেন। তিনি এসব প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে খাদ্যের উৎপাদন, মাছের উৎপাদন বাড়াতে সারাদেশে খাল খনন করেছেন। খাদ্য উৎপাদনের জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। অল্প সুদে তিনি ব্যাংক থেকে কৃষিঋণ দেয়ার পদক্ষেপ নিয়েছেন। এভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে গোটা জাতিকে তিনি একটা শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছেন।
জিয়াউর রহমান মানুষের কাছে একজন অনুকরণীয় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন উল্লেখ করে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, তাকে দেশ বিদেশের আন্তর্জাতিক শক্তি যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বকে পছন্দ করেনি তাদের ষড়যন্ত্রে হত্যা করা হলো। তিনি কেন নিজ দেশকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেষ্টা করছেন, দেশকে কেন স্বাবলম্বী করছেন, কেন দেশকে গণতন্ত্র দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমরা গণতন্ত্রের নমুনা শেখ হাসিনার আমলে দেখেছি, তার বাপের আমলেও তা-ই ছিল। সে আইন করেছে, কালাকানুন অনেক করেছে। কিন্তু মত প্রকাশের স্বাধীনতা ছিল না। যারা কিছুটা মত প্রকাশ করেছেন, তাদের ঠিকানা হয়েছে কারাগারে। এর ব্যতিক্রম ছিল বিএনপির আমল। বিএনপি আমলে যে কোনো মানুষ নির্বিঘ্নে মত প্রকাশ করতে পারতো। গণতন্ত্রের নিশ্চয়তার দল হচ্ছে বিএনপি।





