বন্ধ কলকারখানা পুনরুজ্জীবিত করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত এক বিশাল শ্রমিক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া সকল কলকারখানা পুনরায় চালু করার ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছেন।
শুক্রবার (১ মে) বিকেলে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি অর্থনীতির চাকা সচল ও শ্রমিকদের অধিকার পুনরুদ্ধারে এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
মে দিবসের রক্তঝরা ইতিহাস স্মরণে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিগত বছরগুলোতে বন্ধ হওয়া কলকারখানাগুলো কেবল যান্ত্রিক কাঠামো নয়, বরং হাজার হাজার শ্রমিকের জীবিকার উৎস।
তিনি ঘোষণা দেন, আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় সচল করা হবে, যাতে দেশের বেকার সমস্যার সমাধান ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিগত ‘ফ্যাসিবাদী’ আমলের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর লুটপাটের কারণে দেশের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে গিয়েছিল। স্বৈরাচারী শাসনামলে শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে এবং প্রতিটি পেশার মানুষকে তাঁদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।”
তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, বর্তমান সরকার শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর এবং শিল্পক্ষেত্রে কোনো ধরণের সিন্ডিকেট বা লুটপাট সহ্য করা হবে না।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা ফখরুল তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের প্রতিটি ধমনীতে দুর্নীতির যে বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা পরিষ্কার করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই সরকারের মূল লক্ষ্য।
বক্তারা উল্লেখ করেন, শিল্পকারখানা চালু করার মাধ্যমে কেবল কর্মসংস্থান নয়, বরং জাতীয় আয় বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তৃতায় অর্থনীতিকে ‘লুটপাটের মহোৎসব’ থেকে মুক্ত করার ওপর জোর দেন এবং শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার আশ্বাস দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা দেশের ভঙ্গুর শিল্প খাতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বিশেষ করে বস্ত্র ও পাট খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগুলো যদি পুনরায় প্রাণ ফিরে পায়, তবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। শ্রমিক নেতারা আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়িত হলে দেশের বেকারত্ব উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।
মহান মে দিবসে নয়াপল্টনের এই সমাবেশ কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না, বরং এটি ছিল অধিকারবঞ্চিত মানুষের দাবির এক বলিষ্ঠ প্রতিফলন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বন্ধ কলকারখানা চালুর ঘোষণা দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের পথে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্বৈরাচারের তকমা মুছে ফেলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কর্মসংস্থানমুখী বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় তিনি ব্যক্ত করেছেন, তার সফল বাস্তবায়নই এখন সাধারণ মানুষের মূল প্রত্যাশা।





