ফিচার স্বাস্থ্য

পেঁপে যখন বিষ! চিনে নিন রাসায়নিকমুক্ত ফল কেনার সহজ উপায়

সুস্থ থাকতে পুষ্টিকর ফলের বিকল্প নেই, আর এই তালিকার প্রথম সারিতেই থাকে পেঁপে। তবে বর্তমান বাজারে সতেজ ও পাকা পেঁপে কেনার আগে দশবার ভাবছেন সাধারণ ক্রেতারা। অসাধু ব্যবসায়ীদের দ্রুত মুনাফার লোভে পেঁপে পাকানোর কার্বাইড বা ক্ষতিকর ইথ্রেল ব্যবহারের প্রবণতা জনস্বাস্থ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

পুষ্টির আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিপদ

পেঁপে হজমে সহায়তা করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়—এটি সর্বজনস্বীকৃত। কিন্তু গত কয়েক বছরে দেখা গেছে, গাছপাকা পেঁপের পরিবর্তে কৃত্রিমভাবে পাকানো ফলেই বাজার সয়লাব। এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত ‘ক্যালসিয়াম কার্বাইড’ যা শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত হয়, তা আমাদের শরীরের জন্য রীতিমতো বিষ। চিকিৎসকদের মতে, রাসায়নিক দিয়ে পাকানো পেঁপে খেলে শুধু হজমের সমস্যা নয়, দীর্ঘমেয়াদে লিভার, কিডনি এবং স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এমনকি এটি ক্যানসারেরও কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

কীভাবে বুঝবেন আপনার কেনা পেঁপে রাসায়নিকমুক্ত?

একজন অভিজ্ঞ ক্রেতা হিসেবে শুধু চোখের দেখায় নয়, কিছু কৌশল অবলম্বন করলে আপনি বিষাক্ত পেঁপে এড়াতে পারেন:

  • রঙের সামঞ্জস্য: গাছপাকা পেঁপের গায়ে কোথাও হলুদ, কোথাও একটু সবুজ আভা থাকে। কিন্তু রাসায়নিক দিয়ে পাকানো পেঁপে হবে আগাগোড়া একদম গাঢ় হলুদ বা টকটকে লাল।

  • বোঁটার অংশ: প্রাকৃতিকভাবে পাকা পেঁপের বোঁটার দিক থেকে কষ বের হতে পারে। রাসায়নিকে পাকানো পেঁপের বোঁটা সাধারণত শুকিয়ে কালচে হয়ে থাকে।

  • স্বাদ ও গন্ধ: কৃত্রিমভাবে পাকানো পেঁপের বাইরেটা দেখতে সুন্দর হলেও এর ভেতরটা তেমন মিষ্টি হয় না এবং স্বাদে পাণসে লাগে। এছাড়া এর কোনো স্বাভাবিক সুঘ্রাণ থাকে না, বরং হালকা ওষুধের গন্ধ পাওয়া যেতে পারে।

  • পানিতে পরীক্ষা: একটি বড় পাত্রে পানি নিয়ে পেঁপেটি ছেড়ে দিন। যদি এটি ভেসে থাকে তবে বুঝবেন এটি প্রাকৃতিকভাবে পেকেছে। রাসায়নিকের প্রভাবে ভারী হয়ে যাওয়া ফল অনেক সময় ডুবে যেতে পারে।

বাজার মনিটরিং ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত অভিযানে বিভিন্ন সময় অসাধু ব্যবসায়ীদের জেল-জরিমানা করা হলেও সমস্যার মূলে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। ফল ব্যবসায়ীদের মতে, বাগান থেকে সরাসরি রাজধানীতে পৌঁছাতে যে সময় লাগে, তাতে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমাতে অনেকেই কাঁচা পেঁপে পেড়ে কৃত্রিম উপায়ে পাকান। কিন্তু এই সহজ লাভ এখন সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে।

পুষ্টিবিদদের মতে, যারা প্রতিদিন ডায়েটে পেঁপে রাখেন, তারা যদি না বুঝে এই বিষাক্ত ফল খান, তবে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হবে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

এক নজরে সতর্কবার্তা:

  • অস্বাভাবিক উজ্জ্বল হলুদ রঙের পেঁপে এড়িয়ে চলুন।

  • খাওয়ার আগে অন্তত এক ঘণ্টা লবণ-মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।

  • সম্ভব হলে বিশ্বস্ত বিক্রেতা বা সরাসরি বাগান থেকে ফল সংগ্রহ করুন।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের যেমন দায়িত্ব, তেমনি সচেতন হওয়া আমাদের একান্ত কর্তব্য। বাজার থেকে ফল কেনার সময় চটকদার রঙের মোহে না পড়ে একটু সময় নিয়ে পরীক্ষা করে কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ।

মনে রাখবেন, স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল; আর সেই স্বাস্থ্য রক্ষায় সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। রাসায়নিকমুক্ত পেঁপেই হতে পারে আপনার দীর্ঘায়ুর চাবিকাঠি, কিন্তু একটু অসতর্কতা আপনার শরীরে ডেকে আনতে পারে অপূরণীয় ক্ষতি।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার