পৃথিবীর সবচেয়ে অলস প্রাণীটি চেনেন?
পৃথিবীর এই প্রাণীর অলসতার সঙ্গে কাউকেই তুলনা করা যায় না। এই আলসেমোর কারণেই তার নাম দেওয়া হয়েছে শ্লথ। সমস্ত রকম আলসেমিকে হারিয়ে দেবে এই প্রাণীর আচরণ।
পৃথিবীতে প্রায় ছয়টি প্রজাতির শ্লথ আছে। আঙুলের বিচারে এদের দুই ভাগে ভাগ করা যায়। দুই আঙুল এবং তিন আঙুলের শ্লথ দেখতে পাবেন। তবে বেশিরভাগ শ্লথের পায়ে তিনটি করে আঙুল থাকে। এরা এক জায়গায় চুপ করে শুয়ে থাকে। খুব একটা নড়াচড়া করে না। তিন আঙুল ওয়ালা শ্লথের মুখ দেখলে মনে হবে তারা যেন সব সময়ই হাসছে। এদের রয়েছে দুটি কশেরুকা, তাই এরা খুব সহজেই মাথা বৃত্তাকারে ঘোরাতে পারে। প্রায় ২৭০ ডিগ্রি পর্যন্ত মাথা ঘোরানো এদের কাছে কোন ব্যাপারই না। এদের প্রধান খাবার গাছের মুকুল, ফুল, লতাপাতা প্রভৃতি। তবে কিছু কিছু শ্লথ আছে যারা ছোট ছোট পোকামাকড় এবং সরীসৃপ প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করে। এরা শুধু কাজে অলস নয়, এদের খাবার হজম হতেও দেরি হয়। একবার খেলে খাবার হজম হতে সময় লাগে ৩ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত।
আচরণে আলসেমি থাকলেও কোন শিকারি যদি আক্রমণ করে তখন কিন্তু এরা হিংস্র হয়ে ওঠে।নিজেদের জীবন রক্ষার জন্য থাবা দিয়ে সজোরে আঘাত করে, কামড়ে দেয় এবং তীক্ষ্ণ চিৎকার করতে থাকে। মা শ্লথ অত্যন্ত মমতাময়ী হয়। এদের একবারে একটি করে বাচ্চা হয়। জন্মের পর কয়েক মাস বাচ্চা শ্লথ তার মায়ের পেট আঁকড়ে ধরে থাকে। এরা লম্বায় প্রায় দুই থেকে আড়াই ফুট পর্যন্ত হয়। এদের ওজন সাড়ে তিন থেকে আট কেজি পর্যন্ত।
শ্লথ প্রায় ছয় কোটি বছর আগে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিল। এদের দেখা যায় মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকার জঙ্গলে। অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় এদের জীবন ধারণের প্রক্রিয়া একটু ভিন্ন। এদের সবথেকে পছন্দের কাজ হলো ঘুমানো। একসময় মনে করা হত, এক একটি শ্লথ প্রায় কুড়ি ঘন্টা পর্যন্ত ঘুমাতে পারে। তবে বর্তমানে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন এরা প্রায় ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমায়। তবে এত সময় ঘুমানোর সত্ত্বেও তারা নিজেদের জায়গা থেকে নড়তে চায় না। এক জায়গায় বসে থাকতেই বেশি ভালোবাসে।





