নির্বাচনের দিনে কোনো সহিংসতায় আওয়ামী লীগকে দায়ী করবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনের দিনে কোনো সহিংসতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটলে তার পুরো দায়ভার আওয়ামী লীগের ওপর চাপানো হবে—এমন কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নয়াদিল্লিতে সম্প্রতি শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যকে ‘নির্বাচন বানচালের জন্য সহিংসতায় উসকানি’ হিসেবে চিহ্নিত করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা। এ ঘটনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন তৈরি করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ জানুয়ারি, যখন ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অডিও লিঙ্কের মাধ্যমে বক্তব্য দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ‘হত্যাকারী, ফ্যাসিস্ট চক্র’ বলে অভিহিত করেন এবং দেশবাসীকে ‘যে কোনো মূল্যে বিদেশী-পোষিত সরকারকে উৎখাত’ করার আহ্বান জানান। হাসিনার এই বক্তব্যকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘ঘৃণা ও উসকানিমূলক’ বলে অভিহিত করেছে। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এমন বক্তব্য আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়ানোর প্রত্যক্ষ উসকানি।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। তারপর থেকে মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ পরিচালনা করছে। এই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক স্থানান্তর নিশ্চিত করা। কিন্তু আওয়ামী লীগকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত’ অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা দলটির নেতৃত্ব অস্বীকার করে আসছে। হাসিনার বক্তব্যে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ‘বিদেশী পুতুল’ বলে অভিহিত করে নির্বাচনকে ‘অবৈধ’ বলে দাবি করেন, যা ঢাকার কাছে নির্বাচনী প্রক্রিয়া বানচালের চেষ্টা বলে মনে হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতের মাটিতে এমন একজন ব্যক্তিকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য ‘বিপজ্জনক নজির’ স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ ভারতের কাছে হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য বারবার অনুরোধ করেছে, কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় ভারতীয় দূতাবাসে অভিযোগ দায়ের করেছে ঢাকা, যাতে হাসিনার বক্তব্যকে ‘সন্ত্রাসবাদে উসকানি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভারত এ অভিযোগ ‘সম্পূর্ণভাবে’ প্রত্যাখ্যান করেছে, বলেছে যে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কেউ কেউ হাসিনার বক্তব্যকে ‘দেশপ্রেমের আহ্বান’ বলে দেখছেন, আবার অনেকে এতে সহিংসতার ঝুঁকি দেখছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মিডিয়া উপদেষ্টা শফিকুল আলম এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও মিডিয়া হামলার ঘটনা বাড়ছে, যা নির্বাচনের পরিবেশকে প্রভাবিত করছে। আওয়ামী লীগের নেতারা নির্বাচনকে ‘অভিনয়’ বলে অভিহিত করে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সরকার জানিয়েছে, যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক সফরে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়ার কথা উঠেছে, কিন্তু ঢাকা এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই টানাপোড়েন দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।





