নারীদের নিজেদের গুণেই নিজেদের অধিকার আদায় করে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শুধু মাথা খুটলে আর আকুতি জানালে হবে না, নিজেদের গুণেই নিজেদের অধিকার আদায় করে নিতে হবে। নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করতে পারলেই কারও মুখাপেক্ষি হয়ে আর থাকতে হবে না।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে জয়িতা ফাউন্ডেশনের ধানমন্ডিস্থ নবনির্মিত জয়িতা টাওয়ার উদ্বোধন শেষে গণভবন থেকে নারী উদ্যোক্তা এবং সারাদেশ থেকে আসা আওয়ামী লীগের নারী নেত্রীদের সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, একটা সময় রাষ্ট্রপতিকে বলেছিলাম, নারী নাম না থাকলে সেই ফাইল আমি কার্যকর করব না। কেন না, রাষ্ট্রপতির ফাইল তো প্রধানমন্ত্রীর কাছে আসে। আবার নারী এসপি করার সিদ্ধান্তের সময় অনেকেই ইতস্তত করেছিলেন। কিন্তু এখন এটা প্রমাণিত তারাও পারে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে। নারীকে পর্দার আড়ালে বন্দি রেখে, কাজ করতে না দিয়ে ইসলাম রক্ষা হয় কিভাবে? সবক্ষেত্রে এখন নারীদের সমান অধিকার আদায় করে নিতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর জামায়াতের সাথে জোট বেধে নারীদের কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রে উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাড়ায়।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় প্রাণ হারানো নারী নেত্রী আইভি রহমানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় বিরোধীদলে থাকা অবস্থায় বিএনপি-জামায়াতের নৃশংস অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে আমাদের নারী নেত্রী ও কর্মীদের। সমাবেশে গ্রেনেড ছুঁড়ে হত্যাও করা হয়।
তিনি বলেন, জাতির পিতার সংগ্রামী জীবনে সবসময় ছায়ার মত ছিলেন আমার মা ‘বঙ্গমাতা’। একজন নারী পাশে থাকলে পুরুষের বিজয় যে তরান্বিত হয় তা প্রমাণ করে গেছেন বঙ্গমাতা। একটা সময় ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে বিচারও চাওয়া যেত না। বঙ্গমাতা নিজে দাঁড়িয়ে গণবিয়ে দিতেন। আর তাদের ঠিকানা দেয়া হত ধানমন্ডি-৩২ নম্বরের। সেই সব নারীদের বাবার নামের জায়গাতে নিজের নাম দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু।
এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীর সংখ্যা বেশি। পরীক্ষার পাসের হারেও দেখা যাচ্ছে মেয়েরা এগিয়ে। পৃথিবীতে জেন্ডার ইক্যুয়ালিটির কথা বলা হয়, আমাদের দেশে তো এটার উল্টো ঘটনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ক্রীড়া, সংস্কৃতিসহ এখন সবক্ষেত্রেই মেয়েরা এগিয়ে আছে। জয়িতার মাধ্যমে নারীরা আরও এগিয়ে যাবে বলেন তিনি।
দেশে যাতে কোনোভাবেই খাদ্যের অভাব দেখা না দেয় সেই ব্যবস্থা এবং উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে এ কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কারও কাছে হাত পেতে নয়, আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াব। আন্দোলন করে অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করতে হবে না। অধিকার নিজের কাজের মধ্যে দিয়ে জ্ঞান ও কর্মদক্ষতার মধ্যে দিয়েই অর্জন করতে হবে আমাদের।
পৃথিবী জুড়ে যুদ্ধের দামামা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে আমরা যুদ্ধ চাই না। নারী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়; মা হিসেবে বিশ্ব নেতাদের কাছে অনুরোধ করব; আপনারা এ অস্ত্রের প্রতিযোগিতা আর যুদ্ধ বন্ধ করুন। নারী-শিশুদের মানবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করুন আপনারা।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই দেশ যেমন এগিয়ে যাচ্ছে, তেমনি নারীর ক্ষমতায়ানও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে; এই অগ্রযাত্রা যাতে অব্যাহত থাকে সেই চেষ্টা থাকতে হবে সবারে মধ্যে জানান শেখ হাসিনা। নারীরা এখন গ্রামে বসেও যেমন কাজ করতে পারবে এবং উপার্জনও করতে পারবে। সবার তো ঢাকায় আসার প্রয়োজন নেই। ঘরে বসেই এখন দেশে-বিদেশে অর্থ উপার্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “যুদ্ধের প্রভাব জ্বালানির দামের ওপর পড়লে কেবল বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্বই ক্ষতিগ্রস্ত হবে”





