চালের দামে লাগাম টানতে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ: ওএমএস শুরু হচ্ছে শিগগিরই
বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘মর্ডান ফুড সেফটি সিস্টেম ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি বলেন, চালের দাম আরও বাড়তে না দেওয়ার জন্য সরকার কঠোরভাবে বাজার পর্যবেক্ষণ করছে। আগামী মাস থেকে ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি শুরু হলে চালের দাম কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাজারে চালের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) সূত্রে জানা গেছে, গত জুন মাসে চালের দাম কেজিতে ৭ থেকে ৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে মিনিকেট চাল কেজিতে ৮২ থেকে ৮৫ টাকায় এবং মোটা চাল ৫৬ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে চালের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই এবং চাহিদাও বাড়েনি। এমনকি পরিবহন খরচ বা শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কোনো তথ্যও তাদের কাছে নেই।
রাজধানীর একজন চাল ব্যবসায়ী রাকিব হোসেন জানান, “ঈদের পর থেকে হঠাৎ করেই চালের দাম বেড়ে গেছে। কিন্তু বাজারে চালের সরবরাহ আগের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে। কেন দাম বাড়ছে, তা স্পষ্ট নয়।” তিনি আরও বলেন, “বাজারে কিছু মজুতদারি বা অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি থাকতে পারে।”
খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার জানান, সরকার ইতোমধ্যে নওগাঁ ও কুষ্টিয়ার মতো এলাকায় চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট ভাঙার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা বাজারে কোনো ধরনের কারসাজি বরদাস্ত করব না। ওএমএস এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে চাল সরবরাহ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমে।”
এদিকে, অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, চাল আমদানির শুল্ক কমানো এবং বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে দাম নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। তারা জানান, দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত থাকলেও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবের কারণে দাম অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।





