জাতীয় ফিচার

গণঅভ্যুত্থানের ফসল ভাগ করে নিচ্ছে বিএনপি-জামায়াত, সংস্কারে বাধা দিচ্ছে সবাই: নাহিদ ইসলাম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র-জনতার যৌথ সংগ্রামে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটলেও, এখন সেই বিজয়ের ফসল ভোগ করছেন সব রাজনৈতিক দল—বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াত। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য তারা এমনকি ‘বন্দোবস্ত’ করে নিচ্ছে, যাতে নির্বাচনী খেলায় তাদের সুবিধা হয়। এনসিপি গণঅভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা দল হলেও, শহীদ-আহতদের দায়িত্ব নেওয়া বা প্রবাসী কারাবন্দিদের মুক্তির মতো বিষয়ে অনেকেই তাদের দিকে আঙুল তুলেছে। কিন্তু সংস্কার প্রক্রিয়ায় সবাই বাধা দিচ্ছে—কেউ প্রকাশ্যে, কেউ গোপনে।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আরব আমিরাতে আটক বাংলাদেশি প্রবাসীদের মুক্তি উপলক্ষে আয়োজিত শুকরানা ও দোয়া অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শতাধিক প্রবাসী নেতা-কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা, যারা গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশবিদেশ থেকে সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন। নাহিদ বলেন, “এই প্রবাসীরা জুলাইয়ের যোদ্ধা। তারা নিশ্চিত ঝুঁকি জেনেও রাজপথে নেমেছিলেন। সরকার পতন না হলে তারা কখনো মুক্তি পেতেন না। তাদের অবদান সারাজীবন মনে রাখবো এবং সরকারের কাছে পুনর্বাসনের আবেদন জানাবো।”

নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, “এনসিপি কখনো বলেনি গণঅভ্যুত্থান আমাদের। এটা ছাত্র-জনতার যৌথ সাফল্য। কিন্তু শহীদ পরিবার, আহতদের সহায়তা বা কারাবন্দি প্রবাসীদের মুক্তির প্রসঙ্গে এলে অনেকে বলে, ‘এটা এনসিপির দায়িত্ব’। আমরা দায়িত্ব নিচ্ছি, কারণ আমরা গণঅভ্যুত্থান থেকে জন্ম নিয়েছি।” তিনি আরও জানান, এই মুক্ত প্রবাসীদের মধ্যে অনেকেই এখনো চাকরি হারিয়েছেন এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পুনর্বাসন, চাকরির নিশ্চয়তা এবং আর্থিক সহায়তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

সংস্কারের প্রসঙ্গে নাহিদের কথায় স্পষ্ট অভিযোগ উঠলো: “যে সংস্কার অগ্রযাত্রা আমরা শুরু করেছিলাম, সেখানে নানাভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। এক দল প্রকাশ্যে সংস্কারের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে, আরেক দল গোপনে। ফলে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারিনি।” এই মন্তব্যের পটভূমিতে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলী মনে করিয়ে দেয় যে, এনসিপি নির্বাচনী আসনে কোনো আপোষ না করে স্বাধীনভাবে অংশ নেবে এবং জুলাই চার্টার নিয়ে দলগুলোর মধ্যে বিভেদ বাড়ছে। নাহিদের দল ৩০০ আসনেই প্রার্থী প্রতিষ্ঠা করেছে এবং কোনো আসন-ভাগাভাগি করবে না বলে ঘোষণা করেছে।

অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া করা হয়। নাহিদ বলেন, “বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রচণ্ড অসুস্থ। তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের লড়াইয়ে তাঁর ভূমিকা এ জাতি চিরকাল মনে রাখবে। আশা করি, তিনি আমাদের মধ্যে আরও অনেকদিন বেঁচে থাকবেন।” এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা জাগিয়েছে, কারণ গণঅভ্যুত্থানের পর খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও বিএনপির ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক চলছে।

এনসিপির এই অনুষ্ঠান গণঅভ্যুত্থানের এক বছরের মধ্যে প্রথম বড় উদযাপন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নাহিদ ইসলামের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, দলটি সংস্কার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পক্ষে অটল থাকবে, কোনো আপোষ ছাড়াই।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র