এলপিজির ‘কৃত্রিম সংকট’ করলেই কঠোর ব্যবস্থা
দেশে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও খুচরা পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় সিন্ডিকেট ও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়।
জ্বালানি বিভাগের তথ্যমতে, বাজারে সরবরাহ কমার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। পরিসংখ্যানে দেখা যায়:
নভেম্বর ২০২৫: আমদানি ছিল ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন।
ডিসেম্বর ২০২৫: আমদানি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টন।
অর্থাৎ, আমদানির গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হওয়া সত্ত্বেও বাজারে সিলিন্ডার না পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছে সরকার।
আজ বিকেলে জ্বালানি সচিবের সভাপতিত্বে এলপিজি অপারেটর এবং ‘এলপিজি অনার্স অ্যাসোসিয়েশন’ নেতাদের সাথে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়: জাহাজ সংকট এবং কিছু কার্গোর ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে আমদানিতে সামান্য চ্যালেঞ্জ থাকলেও মজুত পর্যাপ্ত। দেশের ৯৮% এলপিজি চাহিদা মেটায় বেসরকারি খাত। ৩২টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোম্পানির মধ্যে বর্তমানে ১৫টি কোম্পানি সক্রিয়ভাবে আমদানি চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এ মাসে দাম বাড়াতে পারে—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে খুচরা বিক্রেতারা গ্যাস মজুত করে রাখছে বলে আমদানিকারকরা সভায় জানান।
এদিকে আজ সন্ধ্যায় বিইআরসি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম ঘোষণা করেছে। ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১,২৫৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম আজ রাত থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এলপিজির বাজার স্বাভাবিক রাখতে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়া হলে বা মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে এ বিষয়ে সতর্ক নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।





