এজাজের বিদায়, প্রশাসক পদে সুরাইয়া আখতারের হাতে উত্তরের হাল
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসনিক নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এলো। মোহাম্মদ এজাজের স্থলাভিষিক্ত হলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আখতার জাহান। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর নাগরিক সেবার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে এই পরিবর্তনটি এমন এক সময়ে এলো যখন নগরবাসী মশা নিধন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো চিরচেনা সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান খুঁজছে। বিদায়ী প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের মেয়াদের অবসান ঘটায় সরকার একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ আমলা হিসেবে সুরাইয়া আখতার জাহানকে এই চেয়ারে বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সুরাইয়া আখতার জাহান এর আগে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে তার প্রশাসনিক দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। মাঠ প্রশাসন এবং সচিবালয়—উভয় ক্ষেত্রেই তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে উত্তর ঢাকার মতো একটি জটিল ও বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলানোর চ্যালেঞ্জ তাকেই দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন নগর বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সিটি করপোরেশনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর গতি ত্বরান্বিত করতে একজন অভিজ্ঞ আমলার বিকল্প নেই।
নতুন প্রশাসকের সামনে ঝুলে আছে অসংখ্য অসমাপ্ত কাজ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম আসার আগেই ড্রেনেজ সিস্টেম পরিষ্কার করা এবং কিউলেক্স মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা তার জন্য হবে প্রথম পরীক্ষা। এছাড়া উত্তর সিটির স্মার্ট সিটি প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে তিনি কতটা গতি আনতে পারেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছে নগরবাসী।
সিটি করপোরেশনের সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে এই নিয়োগ নিয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। অভিজ্ঞ এই কর্মকর্তার অধীনে কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকিতে তার কঠোর অবস্থান ডিএনসিসির ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করতে পারে।
সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ তার মেয়াদে বেশ কিছু সংস্কারমূলক কাজ হাতে নিয়েছিলেন। তবে প্রশাসনিক স্থবিরতা এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় আরও কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন ছিল। সুরাইয়া আখতার জাহানকে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে সরকার একটি পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে—ঢাকার নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না।





