অন্যান্য ফিচার বিশ্ব সংযোগ

ইউক্রেনে আমেরিকান ‘বুট’ পড়বে না: ট্রাম্পের স্পষ্ট ঘোষণা

যুদ্ধোত্তর ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সেনা পাঠাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আজ মঙ্গলবার ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে সরাসরি সম্প্রচারে এই আশ্বাস দেন তিনি। তবে ইউক্রেনের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন, যদিও এর বিস্তারিত রূপরেখা দেননি।

গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। সেখানে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য চুক্তির পর ইউক্রেনের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে সহায়তা দেবে, কিন্তু সেনা মোতায়েনের প্রশ্নে তিনি সতর্ক।

ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়, এই নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ঠিক কেমন হবে? উত্তরে তিনি বলেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেনে সেনা পাঠাতে আগ্রহী। ‘আমি মনে করি না, এতে কোনো সমস্যা হবে।’ তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো সেনা পাঠানো হবে না বলে স্পষ্ট করে দেন তিনি।

ট্রাম্প আরও যোগ করেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হয়তো চুক্তিতে আসতে চান না, যা আলোচনাকে জটিল করে তুলতে পারে।

হোয়াইট হাউসের গতকালের বৈঠক প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করলে ট্রাম্প ইউরোপীয় নেতাদের ‘ভালো মানুষ’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তাঁরা যুদ্ধ থামাতে চান, কারণ সংঘাতটা তাঁদের কাছাকাছি ঘটছে। এ কারণে বিষয়টি তাঁদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তার প্রশ্নে ইউরোপীয় নেতারা ইউক্রেনে সেনা মোতায়েনে আগ্রহ দেখিয়েছেন, এবং ট্রাম্পের এই অবস্থান ইউরোপীয় নেতাদের উৎসাহিত করেছে, যদিও এতে আলোচনা আরও জটিল হতে পারে।

ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে জেলেনস্কি এবং তাঁর ইউরোপীয় মিত্রদের উদ্বেগ গতকালের বৈঠকে অনেকটাই কমেছে বলে মনে হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আজ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার লিখেছেন, ইউরোপের নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকে দুটি লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। প্রথমটি হলো নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় বড় ধাপ, যা শান্তিচুক্তির পর কার্যকর হবে। দ্বিতীয়টি হলো পুতিনের সঙ্গে জেলেনস্কির সম্ভাব্য বৈঠক।

এর আগে গত রোববার ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে একটি ধারণা দিয়েছিলেন। তিনি জানান, ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্যপদ দেওয়া হবে না।

তবে দেশটির নিরাপত্তায় ন্যাটো সনদের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের মতো ভাষা ব্যবহারে রাজি হয়েছেন পুতিন। এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ন্যাটোর কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলো সাহায্যে এগিয়ে আসবে।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার