অস্ট্রেলিয়ায় বন্দুক হামলা; নিহত ১২
অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত বন্ডাই বিচে ইহুদিদের বাৎসরিক ‘হানুক্কাহ’ উৎসব উপলক্ষে জড়ো হওয়া হাজারো মানুষের ওপর ভয়াবহ বন্দুক হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৯ জন, যাদের মধ্যে দুজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ এটিকে ‘সন্ত্রাসী ঘটনা’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় এ হামলা চালানো হয়। উৎসবে অংশ নিতে এক হাজারেরও বেশি মানুষ সমুদ্রসৈকতে জড়ো হয়েছিলেন। সৈকতের উত্তর দিক থেকে হঠাৎ গুলির শব্দ ছড়িয়ে পড়ায় শত শত মানুষ দৌড়ে পালাতে শুরু করেন। একটি যাচাইকৃত ভিডিওতে এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখা গেছে, যা সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে ধারণ করা হয়েছে। চিলির নাগরিক ক্যামিলো ডিয়াজ (২৫) বলেন, ‘গুলির শব্দ শুনে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। মনে হয়েছে ভারী অস্ত্র থেকে গুলি চালানো হয়েছে।’
পুলিশ সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে গুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথম বার্তায় তারা সাধারণ মানুষকে এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানায়। প্রায় ৪০ মিনিট পর আরেক বার্তায় জানানো হয়, দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের অভিযান এখনো চলমান, এবং সৈকত এলাকা থেকে সন্দেহজনক বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে, যা নিহত এক হামলাকারীর সঙ্গে যুক্ত। একজন হামলাকারী নিহত হয়েছে, অন্যজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে। ঘটনাস্থলের ছবিতে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি এবং জরুরি সেবার তৎপরতা দেখা গেছে। কয়েকজনকে স্ট্রেচারে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় গণহত্যাকারী বন্দুক হামলা অত্যন্ত বিরল। ১৯৯৬ সালে তাসমানিয়ার পোর্ট আর্থারে একাকী বন্দুকধারী ৩৫ জনকে হত্যা করার পর থেকে দেশটিতে কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন চালু হয়েছে। এই হামলাকে ইহুদি-বিরোধী হিসেবে দেখা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বন্ডাইয়ের দৃশ্য অত্যন্ত মর্মান্তিক ও ভয়াবহ। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা।’ পরে টেলিভিশন ভাষণে তিনি যোগ করেন, ‘একজন অস্ট্রেলীয় ইহুদির ওপর হামলা মানে অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যেক মানুষের ওপর হামলা। এটি হানুক্কাহ উৎসবে পরিকল্পিত আক্রমণ।’
হামলাকারীদের পরিচয় এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে পুলিশ জানিয়েছে, তারা ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এ আক্রমণ চালিয়েছে। ঘটনায় সৈকতে উপস্থিত একজন সাহসী ব্যক্তি এক হামলাকারীকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করেছেন, যা সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে এ ঘটনার নিন্দা করা হয়েছে, এবং অস্ট্রেলিয়া সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে





