সংসদ সচিবালয়ে নিয়োগ পাওয়ার জন্য যারা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছেন, তাদের জন্য অত্যন্ত সুখবর নিয়ে এসেছে জাতীয় সংসদ কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন ক্যাটাগরির শূন্যপদগুলো পূরণের জন্য আগামী নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই মূল ধারার দৈনিক পত্রিকাগুলোতে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ নীতি-নির্ধারণী সভায় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর জন্য এটি একটি বড় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে যাচ্ছে।
এক নজরে নিয়োগ সংক্রান্ত মূল তথ্যগুলো:
-
- বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময়: ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।
- পদের শ্রেণি: মূলত তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শূন্যপদগুলো পূরণের লক্ষ্যে এই সরাসরি নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
- উচ্চপদস্থ নিয়োগের তৎপরতা: প্রথম শ্রেণির ১৫টি ও দ্বিতীয় শ্রেণির ১টি শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগের জন্য পিএসসি-কে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
- সভার সভাপতি: সংসদ সচিবালয়ের জনবল-সংক্রান্ত কমিটির প্রথম সভায় সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সংসদ সচিবালয়ের প্রথম বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং জনবল সংকট দূর করার লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম সভাটি বুধবার অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ ভবনে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির প্রধান ও বর্তমান ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সভায় সংসদ সচিবালয়ের সার্বিক কার্যক্ষমতা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা মূল্যায়নের পাশাপাশি খালি পড়ে থাকা পদগুলো দ্রুত পূরণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা পদগুলোতে নতুন জনবল যুক্ত করা না হলে কাজের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কমিটির সদস্যরা সর্বসম্মতভাবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার তাগিদ দেন। এর ফলেই আগামী মাসের শুরুতেই সরাসরি নিয়োগের প্রাথমিক ধাপ অর্থাৎ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সবুজ সংকেত মিলেছে।
পিএসসি ও সংসদ সচিবালয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমন্বয়
কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুধুমাত্র তৃতীয় কিংবা চতুর্থ শ্রেণিই নয়, বরং উচ্চতর পদের শূন্যপদগুলো পূরণেও সমান গতিতে কাজ চলছে। সচিবালয়ের সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদগুলোর মধ্যে প্রথম শ্রেণির ১৫টি পদ এবং দ্বিতীয় শ্রেণির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দ্রুত নিয়োগ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই পদগুলোর নিয়োগ পরীক্ষা যেহেতু বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) আয়োজন করে, তাই পিএসসির চেয়ারম্যানের কাছে জরুরি ভিত্তিতে দাপ্তরিক পত্র পাঠানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রশাসনিক এই সমন্বয়ের ফলে আশা করা যাচ্ছে যে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সংসদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে। কমিটির সদস্যরা মনে করেন, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পিএসসির অধীনে এই প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাদের দ্রুত নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হলে সংসদ সচিবালয়ের দাপ্তরিক কাজ আরও আধুনিক ও গতিশীল হবে।
কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর
জনবল-সংক্রান্ত এই কমিটির সভায় শুধু নতুন কর্মী নেওয়ার সিদ্ধান্তই হয়নি, বরং বর্তমানে কর্মরতদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের বিষয়েও বিস্তর আলোচনা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের কাজের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়। কাজের সঠিক মূল্যায়ন করে যোগ্যদের পদোন্নতি এবং কাজের পরিবেশ উন্নত করার বিষয়েও কমিটি ইতিবাচক মত দিয়েছে।
সংসদের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাব দূর করতে কর্মচারীদের জন্য বিশেষ কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা নিয়মিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে নতুন যারা নিয়োগ পাবেন এবং যারা পুরনো আছেন, সবাই মিলে একটি দক্ষ কর্মী বাহিনী গড়ে তুলতে পারবেন।
চাকরিপ্রার্থীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান
নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সিদ্ধান্ত আসার পর থেকেই চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে এক ধরণের উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারি চাকরির বাজারে সংসদ সচিবালয়ের চাকরি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই বিজ্ঞপ্তির খুঁটিনাটি প্রকাশের আগেই যোগ্য প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার এবং পরীক্ষার জন্য পড়াশোনা শুরু করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
জাতীয় সংসদের এই বড় উদ্যোগটি দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে কিছুটা হলেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আগামী মাসেই জানা যাবে কোন কোন পদে কতজন করে মোট জনবল নেওয়া হবে এবং আবেদনের যোগ্যতা কী থাকছে।