দেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই মুহূর্তে কোনো স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দেশের বিভিন্ন স্তরে সংস্কার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পরই কেবল পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মূল ঘটনা সংক্ষেপে:
-
- দেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের নির্বাচনী ঝুঁকি নিতে চায় না অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
- সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা যুক্তিসঙ্গত হবে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
- ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে মাঠ প্রশাসনের পুনর্গঠন এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি।
- রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে ভোটের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হবে।
নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কারই প্রথম অগ্রাধিকার
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিগত সরকারের আমলে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রথমে নির্বাচন কমিশনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বড় ধরনের রদবদল আনা হচ্ছে। এই সংস্কারগুলো শেষ না করে তড়িঘড়ি কোনো ভোট আয়োজন করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, আমরা একটি টেকসই ব্যবস্থা তৈরি করতে চাই যেখানে প্রতিটি ভোট হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাঠ প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ
বিগত গণ-অভ্যুত্থানের পর সারা দেশের পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় সরকার কাঠামোর মধ্যে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। অনেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র এবং উপজেলা চেয়ারম্যান কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন অথবা আত্মগোপনে আছেন। এই শূন্যতা পূরণে সরকার প্রশাসক নিয়োগ দিলেও মাঠ পর্যায়ে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। এমন অস্থিতিশীল প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে এত বড় একটি ভোটযজ্ঞ পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব।
রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি ও সরকারের অবস্থান
দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো দ্রুত একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে তারা মূলত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই তাদের দাবিদাওয়া পেশ করছে। সরকার মনে করছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার কাঠামোগুলোকে শক্তিশালী এবং দুর্নীতিমুক্ত করা আবশ্যক। সব পক্ষকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, সংস্কারের গতি মন্থর করা হবে না, তবে তাড়াহুড়ো করে কোনো ভুল সিদ্ধান্তও নেওয়া হবে না।
টেকসই গণতন্ত্রের ভিত্তি তৈরিতে মনোযোগ
উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য কেবল একটি নির্বাচন দেওয়া নয়, বরং ভবিষ্যতে যেন কেউ জনগণের ভোটাধিকার হরণ করতে না পারে সেই পথ নিশ্চিত করা। স্থানীয় সরকার স্তরগুলোতে দুর্নীতি ও পেশিশক্তির যে চর্চা গত দেড় দশক ধরে চলেছে, তা রাতারাতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এজন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কাজ চলছে। এই মৌলিক পরিবর্তনগুলো দৃশ্যমান হলেই কেবল ভোটের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে।
পরিশেষে বলা যায়, দেশের মানুষের কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে বর্তমান স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠা জরুরি। সরকার সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে চায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর সব রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেই নির্বাচনী রোডম্যাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।