সৌদি আরবের রিয়াদ কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসার সুবিধার্থে রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত শনিবার ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ জন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও ২৪ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে ওমরাহ যাত্রী ও প্রবাসী কর্মী উভয়েই রয়েছেন, যাদের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস।
ঘটনার মূল হাইলাইটস ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
-
- আহতের সংখ্যা: রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় মোট ২৪ জন বাংলাদেশি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।
- আহতদের পরিচয়: চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ জন ওমরাহ যাত্রী এবং ১১ জন প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক।
- আইসিইউ আপডেট: রিয়াদের কিং আব্দুল্লাহ হাসপাতালের আইসিইউতে ৩ জন এবং ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে ১ জন চিকিৎসাধীন।
- দূতাবাসের উদ্যোগ: আটকে পড়া প্রায় ৫০০ বাংলাদেশির জন্য আবাসন ও বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড ও কিং আব্দুল্লাহ হাসপাতালের পরিস্থিতি
শনিবার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে রিয়াদ বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এ যখন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, তখন যাত্রীরা জেদ্দাগামী ফ্লাইটের বোর্ডিং ব্রিজে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে বর্তমানে ২ জন বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন আছেন। এদের মধ্যে নওগাঁর রানিনগর উপজেলার সাফফাত রহমান নামের একজন ওমরাহ যাত্রী এখনো অচেতন অবস্থায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
অন্যদিকে, রিয়াদের কিং আব্দুল্লাহ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩ জন বাংলাদেশি। এই তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা হলেন ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের হাফেজ হাসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের কাজী নুরুল্লাহ এবং প্রবাসী কর্মী মো. ওমর ফারুক। ওমরাহ করতে গিয়ে এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির শিকার হতে হবে তা ভাবতেও পারেননি স্বজনরা।
হুথিদের হামলায় আহত বাংলাদেশি শ্রমিক ও ওমরাহ যাত্রীদের অন্যান্য হাসপাতাল তালিকা
রিয়াদের অন্যান্য বড় হাসপাতালেও অনেক হুথিদের হামলায় আহত বাংলাদেশি নাগরিককে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ওমরাহ করতে যাওয়া ঢাকার লালবাগের মো. সাইদুল ইসলাম সৌরভ এবং মিরপুরের আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন。 এছাড়া ওমরাহ ভিসায় আসা ঢাকার ডেমরার মো. আব্দুল্লাহকে প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে রেখে জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে。
সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালের তাখাসসুচি ব্রাঞ্চে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও ৩ জন。 এদের মধ্যে ফয়সাল আহমদ ও আব্দুল হক নামের দুজন প্রবাসী কর্মী এবং ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের আরমান হোসেন ওমরাহ যাত্রী হিসেবে সেখানে ভর্তি আছেন。 কিংডম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন প্রবাসী কর্মী মো. রফিক মিয়া。 কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটি হাসপাতালে আছেন চারজন—মো. রায়হানুল ইসলাম, মো. মিসবাহ উদ্দীন হিরক ও ইসমাইল হোসেন。
প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ ও অন্যান্য হাসপাতালের আপডেট
প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ হাসপাতালে একসঙ্গে ৫ জন বাংলাদেশি প্রবাসীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের নাম যথাক্রমে সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহিদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ ও সোবহে সাদেক মো. শাহজাহান সরকার। তারা প্রত্যেকেই জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন এবং আকস্মিক এই হামলার শিকার হন।
এছাড়া এস্টার সনদ হাসপাতালে প্রবাসী কর্মী মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. জামাল এবং সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে নাজমা আক্তার চিকিৎসাধীন আছেন। সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালের আলসাহাফা ব্রাঞ্চে চিকিৎসা নিচ্ছেন উমায়ের ও আব্দুল্লাহ কামিল নামের অপর দুই বাংলাদেশি। আহতদের সবার চিকিৎসার ব্যয় ও নিয়মিত খোঁজখবর রাখার জন্য বাংলাদেশ মিশন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে।
আটকে পড়া ৫০০ যাত্রীর জন্য বিশেষ আবাসন ও ট্রানজিট ব্যবস্থা
ভয়াবহ এই হামলার পর রিয়াদ বিমানবন্দর হয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার পথে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকা পড়েন। রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ১০০ যাত্রীকে রিয়াদের মেরিয়ট হোটেল, রেডিসন হোটেল ও প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে রাখার ব্যবস্থা করেছে। এ ছাড়া ইহরাম পরিহিত ৬৭ জন ওমরাহ যাত্রীকে বিশেষ বাসযোগে রিয়াদ থেকে সরাসরি জেদ্দায় পাঠানো হয়েছে।
ফ্লাইট বাতিল হওয়া বাকি ৪০০ যাত্রীকে বিকল্প উপায়ে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই সংকট উত্তরণে কাজ করছে বলে ঢাকা থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।