কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার সুমনের
মিল্লায় শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার সি এন জি চালক সুমন। সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর শনিবার (১০ অক্টোবর) তাকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হয়। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আদালত পুলিশ।
ঘটনার মূল বিষয়গুলো
- কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে সি এন জি চালক সুমন গ্রেপ্তার হন।
- শনিবার (১০ অক্টোবর) কুমিল্লা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
- পুলিশ জানায়, শিক্ষার্থীকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সি এন জি তে তুলে নেওয়া হয়েছিল।
- গ্রেপ্তারের পর সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাখরাবাদ এলাকার একটি জঙ্গল থেকে শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
কুমিল্লায় শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তি
কুমিল্লার লালমাইয়ে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সি এন জি চালক সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার বিকেলে তাকে কুমিল্লা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৬ নম্বর আমলি আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক মমিনুল হকের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার জন্য তাকে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
জবানবন্দি গ্রহণের পর তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক সাদেকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিচারকের কাছে সুমন হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
৩০০ টাকা ভাড়ায় বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা থেকে শিক্ষার্থীকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেসি এন জি তে তোলেন সুমন। এ জন্য ৩০০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর শিক্ষার্থীকে কুমিল্লার লালমাই এলাকার একটি ফসলি জমিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়।
হত্যার পর চট্টগ্রামে পালানোর অভিযোগ
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন নিয়ে সুমন চট্টগ্রামে পালিয়ে যান। পরে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাখরাবাদ এলাকার একটি জঙ্গল থেকে শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিখোঁজ হওয়ার পর যেভাবে সামনে আসে ঘটনা
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর সকালে ওই শিক্ষার্থী বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে কুমিল্লা নগরীর রেইসকোর্স এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন বলে ঘটনার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
সর্বশেষ ৭ অক্টোবর রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা গিয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। একই রাতে ২টা ৫৮ মিনিটে সে তার বাবার হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে একটি বার্তা পাঠায়।
কিন্তু সে সময় বাবা ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি দেখতে পাননি। পরদিন সকালে পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে। মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
ন্যায়বিচার ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
কুমিল্লায় শিক্ষার্থী হত্যা মামলাটি শিশু-কিশোরীদের নিরাপত্তা এবং নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার গুরুত্ব সামনে এনেছে। কোনো শিক্ষার্থী বিপদে পড়লে তার বার্তা, অবস্থান বা যোগাযোগের সংকেত দ্রুত শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া জরুরি।
আদালতে সুমনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এখন তদন্তের অন্যান্য তথ্য, প্রয়োজনীয় আলামত এবং মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।





