আবেগাপ্লুত হয়ে তথ্যসচিবের বিদায়
আবেগাপ্লুত হয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিদায় নিলেন বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া তথ্য সচিব মোঃ মকবুল হোসেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, এমন অবস্থার জন্য আমি কখনো প্রস্তুত ছিলেন না। বলেন, জীবনে নীতি নৈতিকতার সাথে কখনো কম্পোমাইজ করেননি তিনি ।
বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর পরদিন সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
নিজ পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগ সরকারের নীতি আদর্শে বিশ্বাসী উল্লেখ করে বলেন, তিনি নিজেও এক সময়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
তিনি বলেন, এমন কোন কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, যেটি অপরাধের। তথ্য মন্ত্রণালয়ের মান সম্মান রক্ষায় সবসময় কাজ করেছেন বলে আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের বাইরেও মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছেন।
মন্ত্রীর সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টির যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে বলেন, সংসারে যেমন মতবিরোধ থাকে এক জায়গায় থাকলে সেটি হয়তো হতেই পারে। তবে নীতি-নৈতিকতার প্রশ্নে কখনো আপোষ করেনি। সুযোগ পেলে বঙ্গবন্ধু কন্যার কাছে দেখা করে নিজের কথাগুলো তুলে ধরবেন বলে জানান তিনি।
লন্ডনে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করা কিংবা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রশ্নে তিনি বলেন, কোনদিন এ বিষয়ে সঠিক তথ্য পেলে সেটি সাংবাদিকরা তুলে ধরতে পারেন।
প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, সরকারের একজন তথ্য সচিব যিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের জন্য কাঁদে, তার সম্পর্কে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হল, এটি কি হতে পারে? এই সিদ্ধান্ত নেয়ার সরকারের রাইট আছে জানিয়ে বলেন, এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার এ বিষয়ে বলার কিছু নেই। সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনা অনুসারেই হয়তো এটি হয়েছে জানিয়ে বলেন, আমার হয়তো এই ১৭ অক্টোবর পর্যন্তই সময় নির্ধারিত ছিল চাকরি করার।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, তারেক রহমানকে আমি সরাসরি কখনো দেখিওনি।
বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের কোন বিষয় যদি আপনাদের নলেজে আসে তাহলে পত্রিকায় প্রকাশ করবেন এবং খুজে বের করে প্রশ্ন করবেন। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সরকার বিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ অস্বীকার করেন বিদায় নেয়া তথ্য সচিব।
উল্লেখ্য, চাকরির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মকবুল হোসেনকে ‘বাধ্যতামূলক’ অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।
রোববার বিকেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশে সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৫ অনুযায়ী জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে মকবুল হোসেনকে অবসর প্রদান করা হলো। তবে, কী কারণে তথ্যসচিবকে অবসরে পাঠানো হলো, এ ব্যাপারে কোন তথ্য উল্লেখ করা হয়নি প্রজ্ঞাপনে। এমনকি বাধ্যতামূলক অবসরের কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও অবহিত নয় বলেও জানা গেছে
এদিকে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৫ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর যেকোনো সময় সরকার জনস্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে কারণ দর্শানো ছাড়াই তাঁকে চাকরি থেকে অবসর দিতে পারবে।
তবে যে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিতে হবে।
তবে, সুনির্দিষ্ট কী কারণে একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে, এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কোনভাবেই অবহিত নয় বলে জানান অনেকেই।






৫৭ জেলার ভোটে ‘সন্তুষ্ট’ সিইসি - tathyasangjog
October 17, 2022[…] আরও পড়ুনঃ আবেগাপ্লুত হয়ে তথ্যসচিবের বিদায় […]
বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে, সচিবালয়ে গুঞ্জন - tathyasangjog
October 17, 2022[…] আরও পড়ুনঃ আবেগাপ্লুত হয়ে তথ্যসচিবের বিদায় […]