হিমালয় সীমান্তে রণংদেহী আবহ: ভারত-চীন সীমান্তে ফের উত্তেজনা, মুখোমুখি দুই পরমাণু শক্তি
- অরুণাচল প্রদেশের একাধিক বিতর্কিত স্থানে ভারত ও চীনের সীমান্তরক্ষী বাহিনী পরস্পরের মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে।
- ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (ITBP) মহাপরিচালক এই চলমান সামরিক উত্তেজনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
- ভারতের দাবি, বেইজিংয়ের সেনারা পূর্বনির্ধারিত টহলের চারণভূমি ও সীমান্তরেখা অতিক্রম করার চেষ্টা করেছে।
- চীন অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে সীমান্ত এলাকায় তাদের নিয়মিত পাহারা দেওয়ার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
টহলদারির ধরন বদল এবং দিল্লির অভিযোগ
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন যে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) প্রতিষ্ঠিত টহল বিন্যাস থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণেই মূলত এই অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। চারণভূমি ও ঐতিহ্যগত শিকারের এলাকায় স্থানীয় আদিবাসীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ফলেই এই অস্থিরতা দ্রুত প্রকাশ্যে আসে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত সীমান্তে অতিরিক্ত বিশেষ কমান্ডো ও আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করেছে। দুই দেশের স্থানীয় কমান্ডার পর্যায়ে দফায় দফায় ফ্ল্যাগ মিটিং হলেও কোনো পক্ষই তাদের অবস্থান থেকে এক চুলও নড়তে রাজি হচ্ছে না।
কূটনীতির আড়ালে প্রচ্ছন্ন যুদ্ধপ্রস্তুতি
ব্রিকস সম্মেলনের সাইডলাইনে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার যে আশা দেখা দিয়েছিল, তা এখন সম্পূর্ণ ম্লান। কূটনৈতিক আলোচনার আড়ালে দুই দেশই যে সীমান্তে শক্তি বাড়াচ্ছে, তা এখন স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত এই দুই প্রতিবেশীর সামান্যতম ভুল বোঝাবুঝি ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার মতো বড় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে।
সীমান্তের এই অস্থিতিশীলতা কেবল দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নকেই বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং দুই পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও সীমান্ত সংকটের ভবিষ্যৎ
চীন সরকার সরাসরি শান্তিরক্ষার পুরো দায় ভারতের ওপর চাপিয়ে দিয়ে বলেছে যে, নয়াদিল্লিকে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলো অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে। অন্যদিকে ভারত পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় না থাকলে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক বা কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়।
বর্তমান শীতকালীন আবহাওয়ায় বরফাবৃত পাহাড়ি উপত্যকায় এই সেনা সমাবেশ অব্যাহত থাকলে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। লাদাখ থেকে অরুণাচল পর্যন্ত বিস্তৃত হাজার কিলোমিটারের এই বিতর্কিত সীমান্তকে শান্ত করতে এখন সামরিক আলোচনার চেয়েও বড় রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।




