আখতারুজ্জামানের গ্রেফতার নিয়ে ক্ষোভ, রেমিট্যান্সে প্রভাবের আশঙ্কা জামায়াতের
আখতারুজ্জামান মুক্তি না পেলে প্রবাসীদের একটি অংশ রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধের কথা বলছেন বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। এতে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। রোববার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন দলটির এই নেতা।
এক নজরে
- আখতারুজ্জামানের গ্রেফতার নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে দাবি জামায়াতের।
- মুক্তি না দিলে কেউ কেউ রেমিট্যান্স বন্ধের কথা বলছেন বলে জানিয়েছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
- ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে উল্লেখ করেছে জামায়াত।
- বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা তদন্তে কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।
রেমিট্যান্স নিয়ে যে আশঙ্কার কথা বলল জামায়াত
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আখতারুজ্জামানের গ্রেফতারের ঘটনায় দেশের বাইরে থাকা অনেকের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের বিভিন্ন বক্তব্য তিনি দেখেছেন বলেও দাবি করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বক্তব্যে আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবি জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধের কথাও কেউ কেউ বলছেন।
এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবে কার্যকর হলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জামায়াতের এই নেতা। তবে এটি প্রবাসীদের ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া হিসেবে দলটির পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হয়েছে; রেমিট্যান্স বন্ধের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
‘বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে দেখা উচিত নয়’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের কোনো বিষয়ে বিরূপ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। আখতারুজ্জামানের গ্রেফতারের বিষয়টি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতের এই নেতার বক্তব্যে মূলত আখতারুজ্জামানের গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। তার দাবি, বিষয়টি যত দ্রুত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে, ততই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
আখতারুজ্জামানের গ্রেফতার নিয়ে জামায়াতের বক্তব্য
জামায়াত আখতারুজ্জামানের গ্রেফতারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে বর্ণনা করেছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা এবং ট্রলি সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
তবে মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেছেন, আখতারুজ্জামান কাউকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন—এমন অভিযোগ সঠিক নয়। তার বক্তব্যে গ্রেফতারের পেছনের ঘটনা ও মামলার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
আখতারুজ্জামান জামায়াতের নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মেজর (অব.) হিসেবে পরিচিত। তার গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন
সংবাদ সম্মেলনে বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তার অভিযোগ, লাগেজ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে এবং ট্রলি সংকটও ছিল।
এ ধরনের নাগরিক ভোগান্তির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার কারণ খুঁজে বের করতে তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
তার দাবি, বিমানবন্দরের সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত। তদন্তের মাধ্যমে অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রেমিট্যান্স কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রার উৎস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীরা নিয়মিত দেশে অর্থ পাঠান। এই অর্থের ওপর বহু পরিবার সরাসরি নির্ভরশীল।
রেমিট্যান্সের অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে অবদান রাখার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখে। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দিয়ে পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাড়ি নির্মাণসহ নানা প্রয়োজন মেটানো হয়।
তাই কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধের আহ্বান বা এমন আলোচনা তৈরি হলে সেটি অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠতে পারে। তবে বর্তমানে এমন কোনো সামগ্রিক রেমিট্যান্স বয়কট কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে—এমন তথ্য সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া হয়নি।
প্রবাসীদের প্রতিক্রিয়ার দাবি কতটা বিস্তৃত
জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবাসীদের কিছু বক্তব্যে রেমিট্যান্স বন্ধের কথা উঠে এসেছে। তবে কতজন প্রবাসী এমন অবস্থান নিয়েছেন বা এর পরিমাণ কতটা—সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়নি।
ফলে বিষয়টি আপাতত রাজনৈতিক দলের একজন শীর্ষ নেতার দাবি হিসেবেই সামনে এসেছে। বাস্তবে রেমিট্যান্স প্রবাহে এর কোনো পরিমাপযোগ্য প্রভাব পড়েছে কি না, তা নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যানের দিকে নজর দিতে হবে।
আখতারুজ্জামান মুক্তির দাবিতে রাজনৈতিক চাপ
আখতারুজ্জামান মুক্তি এখন জামায়াতের বক্তব্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। দলটি তার গ্রেফতারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে তুলে ধরে দ্রুত মুক্তির দাবি জানাচ্ছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, দলটি শুধু আইনি বিষয় নয়, এর সম্ভাব্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে আনতে চাইছে। বিশেষ করে প্রবাসীদের ক্ষোভ এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের বিষয়টি উল্লেখ করে সরকারের ওপর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার চাপ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তদন্তের দাবি জামায়াতের
বিমানবন্দরের ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে জামায়াত। দলটির বক্তব্য, বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় আসা উচিত।
শুধু যাত্রীর আচরণকে কেন্দ্র করে ব্যবস্থা না নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে দলটি। তদন্ত হলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র সামনে আসবে বলে আশা করছে জামায়াত।
সামনে কী হতে পারে
আখতারুজ্জামানের গ্রেফতারকে ঘিরে জামায়াতের বক্তব্যের পর বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে আরও আলোচনায় আসতে পারে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের মধ্যে সত্যিই ব্যাপকভাবে রেমিট্যান্স বন্ধের কোনো প্রবণতা তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও নজরে থাকবে।
তবে রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ায় এমন কোনো সিদ্ধান্তের আগে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সতর্কভাবে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও প্রবাসী আয় যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত।
রোববার মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব বক্তব্য দেন। আখতারুজ্জামানের গ্রেফতার, বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা এবং এর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে দলের অবস্থানও এ সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করা হয়।





