Tathya Sangjog is an e-learning platform where one can share news from numerous categories, like administration, art, movies, music, market trends, technology, etc.
সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার ঘোষণা: নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ
BY মাসুম
September 27, 2026
0
Comments
50 Views
বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল চালিকাশক্তি তথা পবিত্র সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস পুনরায় স্থাপন করার জোরালো দাবি ও প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি এবং দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানিয়ে সংবিধানে এই ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনার রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১৫ বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এটিই হতে যাচ্ছে ধর্মীয় ও জাতীয় ঐক্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ধরনের কোনো আইনি সংস্কার পদক্ষেপ। দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ওলামা সমাজ সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে অবিলম্বে তা বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন।
মূল হাইলাইটস
বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস পুনরায় ফিরিয়ে আনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।
বিগত পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাদ পড়া ধর্মীয় ও মৌলিক ধারাগুলো পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
দেশের শীর্ষস্থানীয় ইসলামী চিন্তাবিদ ও জাতীয় নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জ্ঞাপন।
আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সংবিধানের খসড়া সংশোধনী বিল চূড়ান্ত করার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু।
ঐতিহাসিক জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ও ধর্মীয় মূল্যবোধ
একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সংবিধান কেবল কিছু লিখিত আইনের দলিল নয়, বরং এটি সেই দেশের আপামর জনসাধারণের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের আয়না। ১৯৭৭ সালে সংবিধানে যুক্ত হওয়া ‘বিসমিল্লাহির-রাহমানির-রাহিম’ এবং ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ দেশের মানুষের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান দখল করে রেখেছিল। কিন্তু ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই মৌলিক আদর্শিক ধারাটি বাতিল করা হয়, যা নিয়ে তৎকালীন সময়ে দেশব্যাপী ব্যাপক জনরোষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছিল। দীর্ঘ দেড় দশক পর আজ দেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তকে সেই ঐতিহাসিক জনদাবির চূড়ান্ত বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, এই সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতি যেমন সুরক্ষিত হবে, তেমনি অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার ও পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টিও সমভাবে নিশ্চিত করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্র পরিচালনায় জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে এই পদক্ষেপটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ওলামা মাশায়েখরা দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে নির্বাচিত নতুন সরকার তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকে এক ধাপ এগিয়ে গেল।
আইনি সংস্কার ও সংসদীয় প্রক্রিয়া
সংবিধানের মতো একটি স্পর্শকাতর ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিবর্তন আনা কেবল একটি ঘোষণার বিষয় নয়, এর সাথে জড়িত রয়েছে দীর্ঘ আইনি ও সংসদীয় প্রক্রিয়া। আইন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যারা সংবিধানের ধারাগুলো পর্যালোচনা করবেন। সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা পুনঃস্থাপনের জন্য জাতীয় সংসদে একটি নির্দিষ্ট সংশোধনী বিল উত্থাপন করতে হবে। যেহেতু বর্তমান সংসদে সরকারি দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই এই বিলটি পাসের ক্ষেত্রে কোনো বড় ধরনের রাজনৈতিক বা আইনি বাধা আসবে না বলেই ধারণা করছেন সংসদীয় বিশ্লেষকরা।
তবে এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার আগে দেশের সকল রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও আইনি বিশেষজ্ঞদের সাথে উন্মুক্ত আলোচনার আয়োজন করা হতে পারে। সরকারের লক্ষ্য হলো এমন একটি সর্বজনীন সংস্কার করা, যা নিয়ে ভবিষ্যতে আর কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিতর্ক বা বিভাজন তৈরির সুযোগ না থাকে। দেশের সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরাও মনে করছেন, জনআকাঙ্ক্ষার সাথে সংগতি রেখে সংবিধানে এই রূপবদল আনা হলে তা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদে সাহায্য করবে।
জাতীয় সংহতি ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা
একটি বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে ধর্মীয় অনুশাসনের গুরুত্ব অপরিসীম। নতুন বাংলাদেশ পুনর্গঠনের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে সংবিধানে দেশের মানুষের মৌলিক বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটানো হলে তা জাতীয় সংহতিকে আরও সুদৃঢ় করবে। সরকার আশা করছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের যে মেরুকরণ ও অনাস্থার পরিবেশ ছিল, তার অবসান ঘটবে এবং সবাই মিলে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।
সর্বস্তরের মানুষের প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যাশা
এই ঘোষণার পর থেকেই দেশের সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ নাগরিকরা মনে করছেন, নিজেদের ধর্মীয় স্বকীয়তা ফিরে পাওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের মালিকানা আরও মজবুত হলো। এখন সকলের দৃষ্টি জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের দিকে, যেখানে এই ঐতিহাসিক সংশোধনী বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হতে পারে।
সংবিধানে ধর্মীয় মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার ঘোষণার পাশাপাশি দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি সাধারণ মানুষের (ফাইল ছবি)।