কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ফ্রান্সজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা
বিশ্বকাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালে বৃহস্পতিবার আফ্রিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামছে ফ্রান্স। বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচকে ঘিরে সমর্থকদের শান্ত ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে ফরাসি সরকার। অতীতে বড় ম্যাচের পর কিছু স্থানে সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায় এবার আগেভাগেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ফ্রান্সের সঙ্গে মরক্কোর ঐতিহাসিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ১৯৫৬ সালে ফরাসি শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে উত্তর আফ্রিকার দেশটি। বর্তমানে ফ্রান্সে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মরক্কো বংশোদ্ভূত নাগরিক বসবাস করেন। এছাড়া মরক্কো জাতীয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের জন্মও ফ্রান্সে এবং তারা ফরাসি ক্লাব ফুটবলে খেলেন।
দলের অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি স্পেনে জন্ম নিলেও তিনি ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইনের (পিএসজি) হয়ে খেলছেন। ফলে দুই দেশের ফুটবল ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কও বেশ ঘনিষ্ঠ।
২০২২ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে মরক্কোর পরাজয়ের পর উদযাপন তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে এবার কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ম্যাচ চলাকালে দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় সময় রাত ১০টায় শুরু হওয়া ম্যাচকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।
প্যারিস থেকে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছেন, এই ম্যাচ যেন শুধুই ফুটবল উৎসব হয়ে থাকে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা বরদাশত করা হবে না।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পিএসজির জয়ের পর প্যারিসে সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ ২২৫ জন প্রাপ্তবয়স্ককে আটক করেছিল। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে পুলিশকে বাধা দেওয়া এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবারও নিরাপত্তায় বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।





