অনলাইন জুয়ায় দৈনিক আয় ২ কোটি টাকা: সিআইডির জালে হোতাসহ চক্রের ৮ সদস্য
দেশজুড়ে বিস্তৃত অনলাইন জুয়ার এক ভয়ংকর নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অভিনব কায়দায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জুয়ার সাইট পরিচালনা করে দিনে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। অবশেষে সিআইডির বিশেষ অভিযানে চক্রের মূল হোতাসহ আট সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সাথে জুয়া ও অবৈধ লেনদেনে জড়িত বিপুল সংখ্যক অ্যাকাউন্ট বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসেই চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করছিল আন্তর্জাতিক জুয়ার সাইটগুলো। সিআইডির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে এসব সাইটে যুক্ত করা হতো। আপাতদৃষ্টিতে একে কেবলই অনলাইন গেম মনে হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে ছিল কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন। গত ছয় মাস ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে এই অপরাধযজ্ঞ চালিয়ে আসছিল চক্রটি।
তদন্তে জানা গেছে, প্রতিদিন এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এক কোটি ৮০ লাখ থেকে দুই কোটি টাকা অবৈধভাবে জমা হতো অপরাধীদের পকেটে। প্রযুক্তির ছদ্মবেশে গড়ে ওঠা এই চক্রের জাল এতটাই গভীরে ছিল যে, সাধারণ ব্যবহারকারীরা বুঝতেই পারতেন না কীভাবে তারা একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন।
ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে হাতিয়ে নেওয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কিন্তু দেশে থাকছিল না। সিআইডির বিশেষ সূত্র নিশ্চিত করেছে, সংগৃহীত টাকা মুহূর্তের মধ্যেই ডিজিটাল হুন্ডি এবং বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সির (ডিজিটাল মুদ্রা) মাধ্যমে দেশের বাইরে পাচার করে দেওয়া হতো। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হচ্ছিল, অন্যদিকে দেশ হারাচ্ছিল বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য এক বড় ধাক্কা।
অপরাধের এই বিশাল সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে চলতি মাসেই বড় ধরনের অ্যাকশনে নেমেছে সিআইডি। কেবল গ্রেফতারই নয়, এদের আর্থিক লেনদেনের ধমনীগুলো কেটে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি যখন সাধারণ মানুষের জীবনকে সহজ করছে, ঠিক তখনই একদল সাইবার অপরাধী মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেটকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। সিআইডি জানিয়েছে, বন্ধের তালিকায় থাকা ৮৭৯টি এমএফএস অ্যাকাউন্ট এবং ৪৩টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার লেনদেন হতো। জুয়াড়িদের এই সিন্ডিকেট ভাঙতে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বিটিআরসিসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।





