অন্যান্য ফিচার বিশ্ব সংযোগ

ট্রাম্পের ১৫ দফা প্রস্তাব, শর্ত মানলে ইরান কী পাবে?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা থামাতে ১৫ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। প্রস্তাবের পুরো তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হলেও এর গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো ইতোমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

ইসরায়েলের একটি প্রভাবশালী টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব কমিয়ে আনা। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চাইছে, ভবিষ্যতে ইরান যেন আঞ্চলিক সংঘাতে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত হতে না পারে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানকে প্রথমেই তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। শুধু তাই নয়, দেশটির পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রগুলো আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় আনতে হবে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের পূর্ণাঙ্গ ও বাধাহীন প্রবেশাধিকার দেওয়াও এই প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান শর্ত বলে জানা গেছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে, ইরানকে তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করতে হবে। বিশেষ করে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি বা পরীক্ষা বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র বহনের সক্ষমতা তৈরি করতে পারে—যা ওয়াশিংটনের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরানের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়টিও প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে। লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেনে ইরানের সামরিক উপস্থিতি কমানোর বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে।

তবে এই কঠোর শর্তগুলোর বিপরীতে ইরানকে কিছু বড় সুবিধা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এর ফলে ইরানের তেল রপ্তানি আবারও স্বাভাবিক হতে পারে, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের ব্যাংকিং লেনদেনের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথাও আলোচনায় এসেছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগের পথ খুলে যেতে পারে এবং দীর্ঘদিন ধরে চাপের মুখে থাকা ইরানি অর্থনীতি কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রস্তাবটি মূলত ‘চাপ ও ছাড়’-এর সমন্বয়ে তৈরি। অর্থাৎ ইরানকে একদিকে কঠোর নিরাপত্তা শর্ত মানতে হবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক সুবিধা দেবে। তবে তেহরান এই প্রস্তাবকে কতটা ইতিবাচকভাবে নেবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

শান্তি প্রস্তাবের সম্ভাব্য প্রধান শর্তগুলো:

  • ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ
  • আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার
  • দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা
  • আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন
  • মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি কমানো

শর্ত মানলে ইরান যে সুবিধা পেতে পারে:

  • যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে প্রত্যাহার
  • তেল রপ্তানি পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ
  • আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং লেনদেন চালুর সম্ভাবনা
  • বিদেশি বিনিয়োগের পথ খুলে যাওয়া

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ১৫ দফা প্রস্তাব কার্যত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকে নতুন করে সাজানোর একটি প্রচেষ্টা। তবে ইরান যদি এটিকে একতরফা চাপ হিসেবে দেখে, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার