যুদ্ধবিরতিতে ইরানের ৫ শর্ত, মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধে ইরান পাঁচ দফা কঠোর শর্ত দিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত থামাতে চলমান পরোক্ষ আলোচনার অংশ হিসেবে তেহরান এসব দাবি তুলেছে বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলি একটি শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই শর্তগুলো উত্থাপন করেছে। একজন ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়, যুদ্ধ থামাতে হলে শুধু অস্ত্রবিরতি নয়, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক প্রভাবের বিষয়েও নিশ্চিত হতে চায় তেহরান।
ইরানের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—এ ধরনের যুদ্ধ যেন আর কখনো না হয়, তার একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দিতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা চুক্তির ইঙ্গিত বহন করে।
দ্বিতীয় শর্তে ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ করেছে। পশ্চিম এশিয়ায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। এই শর্ত বাস্তবায়ন হলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তৃতীয় শর্ত হিসেবে যুদ্ধের কারণে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। এতে অবকাঠামো, সামরিক স্থাপনা এবং বেসামরিক ক্ষতির হিসাব অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই দাবি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং বাস্তবায়ন জটিল হতে পারে।
চতুর্থ শর্তে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে একটি নতুন আইনি কাঠামো তৈরির কথা বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সবশেষে, পঞ্চম শর্তে ‘বিদ্বেষপূর্ণ সংবাদমাধ্যম’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে ইরান। তাদের ইরানের হাতে তুলে দেওয়া অথবা বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। এই শর্তটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই পাঁচ শর্ত কেবল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নয়, বরং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার একটি সুস্পষ্ট বার্তা। এতে বোঝা যাচ্ছে, তেহরান আলোচনায় বসতে আগ্রহী হলেও কোনো ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়।
ইরানের উত্থাপিত প্রধান শর্তগুলো:
- ভবিষ্যতে যুদ্ধ না হওয়ার আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা
- পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি বন্ধ
- যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ
- হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণ
- ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এসব শর্ত কতটা গ্রহণযোগ্য মনে করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে সামরিক ঘাঁটি বন্ধ এবং ক্ষতিপূরণের মতো বিষয়গুলো ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত সিদ্ধান্তের বিষয়।





