আগ্রাসন না থামলে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা আঘাত চলবে
জেনেভায় জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী বাহরেনি সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন বন্ধ না হলে তেহরান তার আত্মরক্ষামূলক অভিযান অব্যাহত রাখবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটি যদি হামলার জন্য ব্যবহার হয়, তা বৈধ লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের ১৪ দেশ ত্যাগ করার সতর্কতা জারি করেছে।
এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন জ্বলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করেছে, যাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু হয়েছে।
এই অভিযানের লক্ষ্য ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি ধ্বংস, নৌবাহিনী নিশ্চিহ্ন, পারমাণবিক সক্ষমতা রোধ এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন বন্ধ করা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে ‘শেষ সুযোগ’ বলে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু যুদ্ধ এখন চতুর্থ দিনে পৌঁছে আরও বিস্তৃত হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রদূত বাহরেনি জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে বলেন, ‘এই আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবো।’ তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘন এবং মানবাধিকারের প্রতি অসম্মান।
এই হুমকি যেন একটি দাবার খেলায় রাজার চালের পাল্টা—ইরান বলছে, তারা শুধু প্রতিরক্ষায় নয়, প্রয়োজনে আক্রমণাত্মকও হবে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর ঘাঁটি যদি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্ল্যাটফর্ম হয়, তাহলে সেগুলোকে লক্ষ্য করা হবে। এর ফলে বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে উত্তেজনা বেড়েছে।
ইরানের পাল্টা হামলায় ইতিমধ্যে এই দেশগুলোর বন্দর, বিমানবন্দর এবং তেল স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। ইরানী লাল অর্ধচন্দ্রের তথ্যানুসারে, দেশে কমপক্ষে ৭৮৭ জন নিহত হয়েছেন, যদিও স্থানীয় সূত্রে সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ছয় সেনা সদস্য কুয়েতে নিহত। ইসরায়েল লেবাননে স্থল অভিযান চালিয়ে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করেছে। তেহরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে, যার ফলে তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশ্ববাজারে শেয়ার পতন ঘটেছে, বিমান চলাচল ব্যাহত।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সহকারী মন্ত্রী মোরা নামদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘গুরুতর ঝুঁকির’ কারণে নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব এই ১৪ দেশ ছেড়ে যেতে বলা হচ্ছে।
এর মধ্যে রয়েছে বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল (পশ্চিম তীর ও গাজা সহ), জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেন। যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরব ও কুয়েতে দূতাবাস বন্ধ করেছে।
এই যুদ্ধের পটভূমি দীর্ঘদিনের। ২০২৩ সালের হামাসের হামলা থেকে শুরু করে ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর আক্রমণ—যুক্তরাষ্ট্র ১৮০টিরও বেশি আক্রমণের শিকার হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুদ্ধে রূপ নিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের পাল্টা হামলা যেন একটি জ্বালানি ছড়ানো—যা গাল্ফ দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ করে তুলতে পারে।
জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ সপ্তাহখানেক চলতে পারে, তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার। ইরান আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু ওয়াশিংটন বলছে ‘দেরি হয়ে গেছে’।





