ইরানে স্কুলে ইসরাইলি হামলা, নিহত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরাইলি হামলায় নিহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ৬০ জন। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা–এর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
খবরে বলা হয়, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশ–এর মিনাব শহরে অবস্থিত একটি বালিকা বিদ্যালয়ে এই হামলা চালানো হয়। হামলার পরপরই স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে নেন। নিহতের সংখ্যা সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে। সর্বশেষ হিসাবে ৫১ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরনা জানিয়েছে, হামলার সময় বিদ্যালয়ে নিয়মিত শ্রেণিকাজ চলছিল। বিস্ফোরণের শব্দে চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্কুল ভবনের একটি অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা ঘটল। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও যুদ্ধনীতির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও শিক্ষার্থীদের মৃত্যু বৈশ্বিক জনমতকে নাড়া দিতে পারে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইতোমধ্যে সংঘাত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনায় জানা গেছে, হামলার পর চারপাশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিভাবকরা ছুটে যান বিদ্যালয়ের দিকে। হাসপাতালগুলোতে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে ধ্বংসস্তূপ ও আহতদের দৃশ্য দেখা গেছে, যদিও সেগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এই হামলা নতুন করে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ইতোমধ্যে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ভাষ্য আরও কঠোর হয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে পূর্ণমাত্রার সংঘাতে রূপ দিতে পারে।





