রমজানের চাঁদ উঠতেই বাজারে আগুন: লেবু-বেগুন থেকে খেজুর, নিত্যপণ্যে অস্বাভাবিক দাম
পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে। সিয়াম সাধনার এই সময়ে সংযম ও আধ্যাত্মিকতার বার্তা সামনে এলেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। রোজার ঠিক আগে লেবু, বেগুন, শসা, পেঁয়াজ, টমেটো, কাঁচা মরিচ, খেজুর, ব্রয়লার মুরগি ও মাছের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছেন ভোক্তারা।
রমজান এলেই বাজারে চাহিদা বাড়ে—এটি নতুন কিছু নয়। কিন্তু ব্যবসায়ীদের একটি অংশের অযৌক্তিক মুনাফা প্রত্যাশা ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে প্রতি বছর একই চিত্র দেখা যায়। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর ও মিরপুরের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক দিনের ব্যবধানে কিছু পণ্যের দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা লেবু ও বেগুন নিয়ে। ইফতারে চাহিদা বেশি থাকায় লেবু এখন প্রতি পিস ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৫ থেকে ৮ টাকার মধ্যে। বেগুনের দামও কেজিতে বেড়েছে ২০-৩০ টাকা। শসা ও টমেটো—দুটোই ইফতারের জনপ্রিয় উপাদান—সেগুলোর দামও তুলনামূলক বেশি।
খেজুরের বাজারও সরগরম। বিভিন্ন মান ও দেশের খেজুরের দাম আগের চেয়ে বেড়েছে। আমদানিনির্ভর এই পণ্যটিতে শুল্ক, ডলার সংকট ও পরিবহন ব্যয়ের অজুহাত তুলে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর কথা বলছেন। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় দাম বৃদ্ধির হার অনেক বেশি।
মাংস ও মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০-২৫ টাকা বেড়েছে। দেশি মাছের পাশাপাশি চাষের মাছ—রুই, কাতলা, তেলাপিয়া—সবকিছুর দামই চড়া। বিক্রেতারা বলছেন, রোজা সামনে রেখে পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে, তাই খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়েছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, মৌসুমি চাহিদা বৃদ্ধি ও বাজার তদারকির ঘাটতির সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং জোরদারের কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবে তার প্রভাব খুব একটা চোখে পড়ছে না।
একজন ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রমজান সংযমের মাস, কিন্তু বাজারে এলে মনে হয় পরীক্ষা দেওয়ার মাস। নিত্যপণ্য কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।”





