ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনি: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে দুইজনের মৃত্যু
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ছিনতাইকারীর সন্দেহে গণপিটুনিতে দুজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে উপজেলার খোদ্দকোমরপুর ইউনিয়নের মোজাহিদপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। সকাল ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শরীফ আল রাজীব।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরের দিকে মোজাহিদপুর এলাকায় দুজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে করে আটক করেন। ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তারা এলাকায় অবস্থান নিয়েছিলেন—এমন সন্দেহ ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা তাদের ওপর হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে দ্রুত লোকসমাগম ঘটে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দুজন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ আল রাজীব বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।” তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সম্প্রতি এলাকায় ছিনতাই ও চুরির কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। ফলে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সন্দেহের বশে কাউকে মারধর বা হত্যা করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এটি দণ্ডনীয় অপরাধ।
আইনবিদদের মতে, গণপিটুনির প্রবণতা সমাজে আইনের শাসনের জন্য বড় হুমকি। বিচারব্যবস্থার বাইরে গিয়ে শাস্তি দেওয়ার মানসিকতা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক অস্থিরতা বাড়ায়। অনেক ক্ষেত্রে ভুল সন্দেহে নিরীহ মানুষও প্রাণ হারান।
সাদুল্লাপুর উপজেলার খোদ্দকোমরপুর ইউনিয়নের মোজাহিদপুর এলাকা বর্তমানে থমথমে। ঘটনাটির পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।





