জাতীয় ফিচার

আগামী নির্বাচন হবে ভবিষ্যতের আদর্শ: প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বুধবার (২১ জানুয়ারি) এক উচ্চপর্যায়ের সভায় নির্দেশ দিয়েছেন যেন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের গণভোট এমনভাবে আয়োজিত হয় যাতে তা ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য আদর্শ হয়ে ওঠে। তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনাকালে তিনি বলেন, “আজ থেকে শুরু, ১২ ফেব্রুয়ারি ফাইনাল—কোথাও যেন কোনো গলদ না থাকে।”

দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর গঠিত এই সরকারের প্রধান লক্ষ্য ছিল সংস্কারের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। এরই অংশ হিসেবে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ও একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা এই সভায় স্পষ্ট করে বলেন যে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশই এখন সর্বোচ্চ নির্দেশ। সবাইকে ইসির নির্দেশনা মেনে একযোগে কাজ করতে হবে।

সভায় তিনি জোর দেন যে এই নির্বাচন শুধু একটি ভোটগ্রহণ নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে। “আমাদের ধাপে ধাপে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আজ থেকে শুরু করে ১২ ফেব্রুয়ারি ফাইনাল পরীক্ষা,” বলেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা এবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী হিসেবে বিবেচিত হবে এবং প্রয়োজনে ভোটকেন্দ্রের আঙিনায় প্রবেশ করতে পারবে। এছাড়া নির্বাচনের আগে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো অরাজকতা না ছড়ায়।

এই নির্দেশনা দেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে এটিকে সরকারের দায়িত্বশীলতার প্রমাণ বলে মনে করছেন, যেখানে অতীতের নির্বাচনগুলোতে বিতর্কের ছায়া পড়েছিল। তবে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন গণভোটের প্রেক্ষাপটে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে। জুলাই সনদের বাস্তবায়নের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান জানানোর পর এই আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে যে সংস্কারের ম্যান্ডেট অনুসারে এই অবস্থান স্বাভাবিক।

নির্বাচনী প্রচারণা ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। মধ্যরাত থেকে প্রার্থীরা প্রচার চালাতে পারছেন। ইসি সচিব জানিয়েছেন, ১০ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে সাতটা পর্যন্ত প্রচারণা চলবে। এই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ অনুসারে সব বাহিনীকে একযোগে কাজ করতে হবে যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে যেতে পারেন।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র