জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে র্যাব কর্মকর্তা নিহত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় র্যাব-৭-এর উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল মোতালেব নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিন র্যাব সদস্য জিম্মি হয়ে পড়েন এবং কয়েকজন আহত হন। সোমবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করলে জানা যায়, র্যাব-৭-এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জঙ্গল সলিমপুরের গহীন অঞ্চলে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য অভিযান চালায়। এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের আখড়া হিসেবে পরিচিত, যেখানে পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে এবং অস্ত্রের ব্যবসা চলে। অভিযানকালে হঠাৎ সন্ত্রাসীরা র্যাব দলকে ঘিরে ফেলে এবং গুলি চালাতে শুরু করে। এতে আবদুল মোতালেব গুরুতর আহত হন এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান।
আহতদের মধ্যে র্যাবের আরও কয়েকজন সদস্য রয়েছেন, যাদেরকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসীরা তিন র্যাব সদস্যকে জিম্মি করে নিয়ে যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পাল্টা গুলি চালিয়েছে, কিন্তু এলাকার ঘন জঙ্গল এবং পাহাড়ী ভূমির কারণে অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
জঙ্গল সলিমপুর এলাকা চট্টগ্রাম শহরের উত্তরাংশে অবস্থিত, যা প্রায় ৩ হাজার একর জুড়ে বিস্তৃত। এখানে দীর্ঘ চার দশক ধরে পাহাড় কেটে অবৈধ প্লট বিক্রি এবং বসতি গড়ে তোলার কারণে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এই গোষ্ঠীগুলো পুলিশ বা প্রশাসনের প্রবেশে বাধা দেয় এবং প্রায়ই হামলা চালায়। গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে এলাকায় গোষ্ঠী সংঘর্ষ বেড়েছে, যাতে ইতিমধ্যে একজন নিহত হয়েছে এবং দুই সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকায় অবৈধ বসতি উচ্ছেদের জন্য একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই সন্ত্রাসীরা বাধা দিয়েছে। ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর এক অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ ২০ জন কর্মকর্তা আহত হয়েছিলেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে র্যাবের সঙ্গে গুলিবিনিময় হয়েছে, যাতে পাঁচ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হয়। এই ঘটনাগুলো দেখিয়ে দেয় যে, জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসের একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে।
র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহত আবদুল মোতালেব একজন সাহসী কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি একাধিক অভিযানে সফলতা অর্জন করেছিলেন। তার মৃত্যুতে র্যাব পরিবার শোকাহত। পুলিশ এবং র্যাবের যৌথ দল এখন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে এবং জিম্মিদের উদ্ধারের চেষ্টা করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এলাকায় সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্যের কারণে তারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।





