গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে তরুণদের হাতে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ তুলে দিন: আলী রীয়াজ
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং গণভোট সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, নতুন করে দেশ গড়ে তুলতে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। তিনি বলেন, এই ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে তরুণদের হাতে কেমন বাংলাদেশ তুলে দেওয়া হবে—‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে তারা পাবে একটি নতুন, সমতাভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত রংপুর বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এ সম্মেলনে রংপুর বিভাগের আট জেলার শতাধিক ইমাম-খতিব অংশ নেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ যদিও কালো কালিতে লেখা, কিন্তু মূলত এটি লেখা হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রক্ত দিয়ে। এই সনদ বাস্তবায়ন করতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণভোট কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের পক্ষে নয়—এটি আগামী ৫, ১০, ১৫ বা তারও বেশি বছর ধরে দেশ কীভাবে চলবে, তার দিকনির্দেশনা নির্ধারণের ভোট। জনগণ যদি ‘হ্যাঁ’ বলে, তাহলে কোনো রাজনৈতিক দলেরই ক্ষমতা থাকবে না সংস্কার আটকে রাখার বা পুরোনো ফ্যাসিবাদী কাঠামো ফিরিয়ে আনার।
তিনি আরও বলেন, বিগত ১৬ বছর ধরে জনগণের টাকা লুটপাট, দুর্নীতি, গুম-খুন ও দমন-পীড়নের অন্ধকার অধ্যায় চলেছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে অনেক ক্ষেত্রে এসব লুটপাট ও দুর্নীতি বন্ধ হবে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক হবে। ভবিষ্যতে যেন আবার কোনো ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরে না আসে, সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে—এবং গণভোট সেই সজাগতার অন্যতম হাতিয়ার।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। এছাড়া রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মজিদ আলী, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এই সম্মেলন দেশজুড়ে চলমান গণভোট সচেতনতা কর্মসূচির অংশ, যা রাজশাহী, বরিশাল থেকে শুরু হয়ে চট্টগ্রাম, ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও খুলনা বিভাগ পর্যন্ত চলবে। অধ্যাপক আলী রীয়াজের এই বক্তব্য গণভোটকে জনগণের মালিকানা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছে।





