জ্বালানি নিরাপত্তায় ২০৫০ মহাপরিকল্পনা: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি গবেষণায় স্বতন্ত্র ইনস্টিটিউট গঠনের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার
বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে আমদানিনির্ভরতা থেকে বের করে এনে টেকসই ও সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে ২০৫০ সাল পর্যন্ত একটি দীর্ঘমেয়াদী রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেছে সরকার। তিন ধাপে বাস্তবায়নের জন্য প্রণীত এই মহাপরিকল্পনায় দেশীয় সম্পদের ব্যবহার এবং পরিবেশগত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা বর্তমানের ১৭ গিগাওয়াট থেকে বেড়ে ৫৯ গিগাওয়াটে পৌঁছাবে। এই বিশাল চাহিদা মেটাতে মহাপরিকল্পনাটিকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. প্রথম ধাপ (২০২৬-২০৩০): সমুদ্রবক্ষে (অফশোর) গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং রিফাইনারি সক্ষমতা বাড়ানো।
২. দ্বিতীয় ধাপ (২০৩০-২০৪০): কৌশলগত জ্বালানি মজুদ ও গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি।
৩. তৃতীয় ধাপ (২০৪০-২০৫০): হাইড্রোজেন ও অ্যামোনিয়া অবকাঠামো, ভূ-তাপীয় (জিওথার্মাল) শক্তি এবং সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ।
অতীতের অপরিকল্পিত প্রকল্পগুলোর সমালোচনা করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “অতীতে অনেক কিছু ভুল লোকেশনে এবং ভুল স্ট্রাকচারে হয়েছে। একরকমভাবে হয়ে আসছে বলেই সেই পথে যেতে হবে এমন কোনো কথা নেই। আমাদের একদম শুরু থেকে নতুন করে চিন্তা করতে হবে।”
তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পলিসি তৈরির জন্য একটি শক্তিশালী ও স্বতন্ত্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান (R&D Institute) তৈরির নির্দেশ দেন। এই প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি মন্ত্রণালয়ের অধীনে না থেকে একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হিসেবে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করবে।
মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বন নিঃসরণ ০.৬২ থেকে কমে ০.৩৫ টনে নেমে আসবে। এর ফলে বছরে প্রায় ৬৪.৫ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাস করা সম্ভব হবে, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সহায়ক হবে।
জ্বালানি খাতের সংস্কারের অংশ হিসেবে বিতর্কিত ‘কুইক রেন্টাল আইন’ (২০১০) ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫ এবং রিনিউবেল এনার্জি পলিসি ২০২৫ গ্রহণ করা হয়েছে। রুফটপ সোলার ও নেট মিটারিং গাইডলাইন চালুর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
সভায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা এই মহাপরিকল্পনাকে দ্রুত ও স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।





