পরিচয় মিলল রায়েরবাজারের ৮ শহীদের: ১৮ মাস পর কবরে স্বজনের চোখের জল
দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আটজন অজ্ঞাতনামা শহীদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ডিএনএ প্রোফাইলিং এবং আধুনিক ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের নাম-ঠিকানা শনাক্ত করার পর বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে এক আবেগঘন অনুষ্ঠানে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
উপস্থিত শহীদ পরিবারের সদস্যরা যখন দীর্ঘ ১৮ মাস পর তাঁদের প্রিয়জনের কবরের সন্ধান পান, তখন সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক, গৃহায়ন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ।
শনাক্তকৃত ৮ শহীদের পরিচয় ও সংক্ষিপ্ত তথ্য
১. মো. মাহিন মিয়া (২৫): পিতা-গাজী মামুদ, গ্রাম-ফুলপুর, ময়মনসিংহ। (শহীদ হন ১৮ জুলাই, ২০২৪)। ২. আসাদুল্লাহ: পিতা-আব্দুল মালেক, গ্রাম-শ্রীবরদী, শেরপুর। (শহীদ হন ১৯ জুলাই, ২০২৪)। ৩. পারভেজ বেপারী (২৩): পিতা-সবুজ বেপারী, গ্রাম-বারোহাটিয়া, চাঁদপুর। (শহীদ হন ১৯ জুলাই, ২০২৪)। ৪. রফিকুল ইসলাম: পিতা-মৃত আব্দুল জব্বার সিকদার, নাজিরপুর, পিরোজপুর। (শহীদ হন ১৯ জুলাই, ২০২৪)। ৫. সোহেল রানা (৩৮): পিতা-মো. লাল মিয়া, লৌহজং, মুন্সীগঞ্জ। (শহীদ হন জুলাই, ২০২৪)। ৬. রফিকুল ইসলাম (২৯): পিতা-মৃত খোরশেদ আলম, ফেনী সদর, ফেনী। (শহীদ হন ১৯ জুলাই, ২০২৪)। ৭. ফয়সাল সরকার (২৬): পিতা-শফিকুল ইসলাম, গ্রাম-কাচিমারা, দেবিদ্বার, কুমিল্লা। (শহীদ হন ২২ জুলাই, ২০২৪)। ৮. কাবিল হোসেন (৫৮): পিতা-মৃত বুলু মিয়া, মুগদা, ঢাকা। (শহীদ হন ২ আগস্ট, ২০২৪)।
এই পরিচয় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াটি নিছক কোনো তদন্ত ছিল না, বরং এটি ছিল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বৈজ্ঞানিক অভিযান।
সিআইডি প্রধান জানান, রায়েরবাজার কবরস্থান থেকে মোট ১১৪টি অজ্ঞাত মরদেহ উত্তোলন করে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ৯টি পরিবারের দেওয়া ডিএনএ নমুনার বিপরীতে ৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং বাকি একটি নমুনার কাজ চলমান।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বলেন, “রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব হলো প্রতিটি শহীদের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া। যারা নিখোঁজ ছিলেন, এই উদ্যোগের ফলে তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের হাহাকার কিছুটা হলেও কমবে।”
সিআইডি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত প্রতিটি মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করার সুযোগ থাকবে, ততক্ষণ এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হবে। এটি কেবল পরিচয় শনাক্তকরণ নয়, বরং ভবিষ্যতে বিচারের ক্ষেত্রে অকাট্য ফরেনসিক প্রমাণ হিসেবেও কাজ করবে।





