শূন্যতা পূরণে তারেক রহমানকে চেয়ারপার্সনের পদে বসানো হবে: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দলের চেয়ারপার্সন পদে অধিষ্ঠিত করা হবে। প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শূন্য হওয়া এই পদের শূন্যতা পূরণ করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান।
ব্যক্তিগত সফরে সিলেটে আসা মির্জা ফখরুল বিকেলে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন এবং প্রয়াত খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া করেন। পরে ওসমানী বিমানবন্দর এলাকার একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এই নির্বাচন শুধু বিএনপির জন্য নয়, পুরো জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর এখন ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে জনগণ। নির্বাচন নিয়ে গণমাধ্যমে আশঙ্কার কথা উঠলেও বিএনপি কোনো শঙ্কা বোধ করে না। প্রথম থেকেই নির্বাচন চেয়ে আসছে দলটি এবং এখন নির্বাচনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাচাই শেষ হয়েছে, প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারণা শুরু হবে।
ক্ষমতায় গেলে জাতীয় সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করবে, তবে সেটা সর্বদলীয় সরকার হবে না। বরাবরের মতো এবারও সিলেট থেকেই বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে।
প্রয়াত খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে রাজসিক মর্যাদায় প্রস্থান করেছেন তিনি। খালেদা জিয়ার স্বপ্নের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বিগত ১৫-১৬ বছরে বিএনপির ৬০ লাখ নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে, ২০ হাজারকে হত্যা করা হয়েছে এবং সিলেটের নেতা ইলিয়াস আলীসহ ১৫০০ নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। দেশে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করা হয়েছিল, কিন্তু গণঅভ্যুত্থানে সেটি উৎখাত হয়েছে।
সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখন যে সুযোগ এসেছে তা কাজে লাগাতে হবে। গণতন্ত্র একদিনে হয় না, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ধীরে ধীরে গড়ে উঠে। নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ গঠন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, এমএ মালিক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, মহানগর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।





