ঐক্য না হলে ‘ভয়াবহ যুদ্ধ’ অপেক্ষা করছে: তারেক রহমান
সামনের রাজনৈতিক যুদ্ধ অনেক কঠিন হবে এবং ঐক্যবদ্ধ না হলে দেশের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—এই কথা সতর্ক করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপির সপ্তাহব্যাপী ‘বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনের মতবিনিময় সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এই সভায় ঢাকার বিভিন্ন ইউনিটের ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন, যা ৭-১৩ ডিসেম্বর চলমান এই বিশেষ কর্মসূচির অংশ।
মনোনয়ন নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ-অসন্তোষের গুঞ্জনের মধ্যেই নেতাকর্মীদের প্রতি তারেক রহমানের বক্তব্য ছিল অত্যন্ত জোরালো। তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ নয়, মুখ্য তোমাদের দল এবং দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা। কম-বেশি যেটা ভালো মনে হয়েছে, সেই সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে। তোমার এলাকায় প্রার্থী ঘোষণা হয়েছে; হয়তো তুমি যাকে পছন্দ করতে, সে মনোনয়ন পায়নি—যে পেয়েছে তার সঙ্গে তোমার যোগাযোগ কম। কিন্তু আরে ভাই, তুমি তো প্রার্থীর জন্য নয়, তুমি ধানের শীষের জন্য, দলের জন্য! এখানে প্রার্থী মুখ্য নয়, মুখ্য তোমাদের দল, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা, মুখ্য ধানের শীষ।”
তারেক রহমান আরও বলেন, “সামনের যুদ্ধটা অনেক কঠিন। ঐক্যবদ্ধ না হতে পারলে সামনে ভয়াবহ কিছু অপেক্ষা করছে।” তিনি অভিযোগ করেন, দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র চলছে এবং সামনে অনেক কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। আন্দোলনের সময় যেমন জনগণকে বুঝিয়েছিলে, তেমনি দেশ গড়ার পরিকল্পনা সম্পর্কেও তাদের বোঝাতে হবে, সম্পৃক্ত করতে হবে। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো কিছুই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
এছাড়া, তিনি স্পষ্ট করেন, অনেকে ক্ষমতায় গিয়ে জুলাই সনদ বা নানা চেতনা বাস্তবায়নের কথা বলেছে, কিন্তু সবার প্রতি সন্মান রেখে বলতে চাই—দেশ গড়তে বিএনপির মতো পরিকল্পনা আর কোনো রাজনৈতিক দল নেয়নি। আমাদের বাস্তবধর্মী হতে হবে এবং মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে। জনগণের ভোটে ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলার লাগাম টেনে ধরবে বিএনপি, যা একমাত্র দলই পারবে। গত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসন যে কীভাবে দেশের প্রত্যেক ক্ষেত্র ধ্বংস করেছে, তা জীবনের পরতে পরতে অনুভব করতে পারি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, আগামী দুই মাসে দলের উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। এটা আজকের অঙ্গীকার। আশা করি তোমরা (উপস্থিত ছাত্রদল নেতারা) এটি বাস্তবায়নে সক্ষম হবে। এই সাতদিনের কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দেশ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা ও জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া, যাতে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি শক্তিশালী হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।





