হাসিনার প্রত্যর্পণ: ভারতের জবাবের অপেক্ষায় ঢাকা
পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন স্পষ্ট করে বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য ভারতকে পাঠানো সর্বশেষ নোট ভার্বালের জবাব ঢাকা প্রত্যাশা করছে। তবে চিঠি পাঠানোর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে উত্তর আসবে—এমনটা ভাবা হচ্ছে না।
বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি মনে করি না যে এক সপ্তাহের মধ্যেই তারা জবাব দেবে। তবে আমরা জবাবের প্রত্যাশায় আছি। ভারত জবাব দেবে না—এমনটাও আমরা মনে করছি না।”
উপদেষ্টা জানান, গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর রায়ের পরপরই ঢাকা নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক নোট ভার্বাল পাঠিয়েছে। এই অনুরোধটি বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায়ই পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “অতীতে আমরা বারবার অনুরোধ পাঠিয়েছি, কিন্তু জবাব পাইনি। এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। আশা করি, এবার ভারত ইতিবাচকভাবে সাড়া দেবে।”
উল্লেখ্য, গত ১৭ নভেম্বর আইসিটি-১ শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ২০২৪-এর জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়। রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এই রায়ের পরই আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (রেড নোটিস) জারির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত ছাড়াও যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ শেখ হাসিনার সম্ভাব্য আশ্রয়দেশগুলোতেও শিগগিরই একই ধরনের নোট ভার্বাল পাঠানো হবে।
তৌহিদ হোসেনের এই সতর্ক কিন্তু আশাবাদী বার্তা থেকে স্পষ্ট, ঢাকা এবার প্রত্যর্পণে কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখবে এবং ভারতের জবাবের জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছে।





