দুর্গাপূজায় ভারতে ইলিশ রপ্তানি: ন্যূনতম মূল্য ১২.৫ ডলার
দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের ইলিশের ব্যাপক চাহিদা থাকায় প্রতি বছর এই সময়ে রপ্তানি বাড়ে। এ বছর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৩৭টি প্রতিষ্ঠানকে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে, যার প্রতি কেজির ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২.৫ মার্কিন ডলার।
গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক আদেশে রপ্তানিকারকদের আবেদন করতে বলা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ৩৭টি প্রতিষ্ঠান এই অনুমতি পেয়েছে। গত বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রথমে ৩,০০০ টন ইলিশ রপ্তানির সিদ্ধান্ত হলেও পরে তা কমিয়ে ২,৪২০ টন নির্ধারণ করা হয় এবং ৪৯টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এ বছর রপ্তানির পরিমাণ গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে।
রপ্তানিকারকদের রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭ অনুসরণ করতে হবে। এই অনুমতি ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। শুল্ক কর্তৃপক্ষ রপ্তানিযোগ্য ইলিশের যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে এবং অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের মাধ্যমে নিশ্চিত করবে যে অনুমোদিত পরিমাণের বেশি পণ্য রপ্তানি হচ্ছে না।
প্রতিষ্ঠানগুলোকে পূর্ববর্তী রপ্তানির পরিমাণ সম্পর্কিত সকল তথ্য-প্রমাণ পরবর্তী আবেদনের সময় দাখিল করতে হবে। অনুমোদিত পরিমাণের অতিরিক্ত রপ্তানি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এছাড়া, এই অনুমতি হস্তান্তরযোগ্য নয় এবং রপ্তানিকারকরা কোনোভাবেই সাব-কন্ট্রাক্ট দিতে পারবেন না। সরকার প্রয়োজনে যেকোনো সময় এই রপ্তানি অনুমতি বাতিল করার অধিকার রাখে।
বাংলাদেশের ইলিশ রপ্তানি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে ভারতের বাজারে। তবে, স্থানীয় বাজারে ইলিশের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখতে রপ্তানির পরিমাণ সীমিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এছাড়া, ইলিশের গুণগত মান বজায় রাখতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।





