নেপালে ইতিহাস: সুশীলা কার্কি প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ
নেপালের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ৭৩ বছর বয়সী কার্কি প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেলের কাছে শপথ নেওয়ার সময় বলেন, “আমি সুশীলা কার্কি, নেপালের জনগণ ও দেশের নামে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের শপথ নিচ্ছি।”
কাঠমান্ডুর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে কূটনীতিক ও কিছু সাবেক নেতার উপস্থিতিতে একটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে শপথ গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট পৌডেল তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “অভিনন্দন! আমরা আপনার ও নেপালের সমৃদ্ধি কামনা করি।” শপথের পর সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং আগামী ৫ মার্চ, ২০২৬-এ নতুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।
চলতি সপ্তাহে হিমালয়ের এই ৩ কোটি জনসংখ্যার দেশটি তরুণ দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের কারণে তীব্র অস্থিরতায় ডুবে যায়। ২০০৮ সালে গৃহযুদ্ধের সমাপ্তি ও রাজতন্ত্রের অবসানের পর এটি ছিল নেপালের সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা, যাতে অন্তত ৫১ জন প্রাণ হারান। বুধবার সেনাবাহিনী রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনে এবং কারফিউ জারি করে।
দুই দিনের তীব্র আলোচনার পর প্রেসিডেন্ট পৌডেল, সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগডেল এবং ‘জেন জি’ নামে পরিচিত তরুণ বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিরা কার্কিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। হাজার হাজার তরুণ কর্মী ডিসকর্ড অ্যাপের মাধ্যমে আলোচনা করে কার্কিকে পরবর্তী নেতা হিসেবে বেছে নেন।
লাল শাড়িতে শপথ নেওয়া কার্কি কোনো বক্তৃতা না দিয়ে হাসিমুখে বারবার হাত জোড় করে প্রণামের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান। জেন জি বিক্ষোভকারী অমৃতা বান বলেন, “এটি আমাদের জয়ের মুহূর্ত। ক্ষমতার শূন্যতা অবশেষে পূর্ণ হলো।” ‘হামি নেপাল’ নামে যুব প্রতিবাদী গ্রুপ ইনস্টাগ্রামে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে লিখেছে, “আমরা সফল হয়েছি। যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রতি সম্মান।”
নেপালের প্রতিবেশী ভারত অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও কার্কির নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “এই পদক্ষেপ শান্তি ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়ক হবে। আমরা নেপালের উন্নতি কামনা করি।”
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নেপাল দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে, যেখানে ১৫-২৪ বছর বয়সীদের এক-পঞ্চমাংশ বেকার এবং মাথাপিছু জিডিপি মাত্র ১,৪৪৭ ডলার। সোমবার সামাজিক মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার কারণে দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ তীব্র হয়, যাতে পুলিশের দমন-পীড়নে কমপক্ষে ২১ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন। মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীরা সংসদ, সরকারি ভবন ও একটি হিলটন হোটেলে অগ্নিসংযোগ করে। এই অশান্তির মধ্যে কমিউনিস্ট নেতা কেপি শর্মা অলি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
পুলিশ মুখপাত্র বিনোদ ঘিমিরে জানান, কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ১২,৫০০-এর বেশি বন্দী এখনো পলাতক। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে লুট হওয়া শতাধিক অস্ত্র উদ্ধার করেছে। শুক্রবার কাঠমান্ডুর শান্ত রাস্তায় সেনাবাহিনীর টহল অব্যাহত ছিল।





