নারীর অবৈতনিক কাজের স্বীকৃতি জরুরি: শারমীন মুরশিদের আহ্বান
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, নারীর অদৃশ্য অবৈতনিক কাজকে দৃশ্যমান করতে হবে এবং এর অর্থনৈতিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) আগারগাঁওয়ের পরিসংখ্যান ভবনে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক প্রকাশিত ‘আনপেইড হাউজহোল্ড প্রোডাকশন স্যাটেলাইট একাউন্ট অব বাংলাদেশ’ প্রতিবেদনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শারমীন মুরশিদ জানান, বিবিএস এবং ইউএন উইমেন বাংলাদেশের যৌথ গবেষণায় নারীর অবৈতনিক গৃহস্থালি ও যত্নমূলক কাজের অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং এর স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। তিনি বলেন, “নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেকের অবদান মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নারীরা গড়ে পুরুষের তুলনায় ৭.৩ গুণ বেশি সময় অবৈতনিক কাজে ব্যয় করেন, যা প্রায়শই অমূল্যায়িত থেকে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “নারীর অবৈতনিক কাজের স্বীকৃতির জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। রাজস্ব, শ্রম এবং সামাজিক সুরক্ষা নীতিতে লিঙ্গ সমতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা ও বাজেট প্রণয়ন করা উচিত।” তিনি নারীদের অধিকারকে প্রাধান্য দিয়ে জাতীয় উন্নয়ন কৌশল তৈরি এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করে যত্নমূলক চাকরি ও লিঙ্গ সমতাভিত্তিক কর্মক্ষেত্র নীতি প্রণয়নের ওপর জোর দেন।
উপদেষ্টা আরও জানান, শ্রম অধিকার ও যত্নমূলক কাজের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে বেসরকারি খাতের সমন্বয় প্রয়োজন। তিনি বলেন, “সমাজ পরিবর্তন হচ্ছে। গবেষণালব্ধ জ্ঞানের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”





