জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত সেনাবাহিনী
আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালনে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা না পেলেও, সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিক বার্তা পাওয়ায় শিগগিরই নির্দেশনা পাওয়ার আশা করছে সেনাসদর।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫) দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাসদরের মিলিটারি অপারেশন্সের পরিচালক কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার আলোকে সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে কাজ করবে। আমরা ইতিমধ্যে নিজেদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি এবং অচিরেই ইসির নির্দেশনা পাব।”
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কর্নেল শফিকুল জানান, নির্বাচনের জন্য সেনাবাহিনী মাঠপর্যায়ে কাজ করার জন্য প্রস্তুত। তবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের সঙ্গে সেনাবাহিনীর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি বলেন, “ডাকসু নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য ও প্রোপাগান্ডার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আইএসপিআরের মাধ্যমে আমরা এর আগেও এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছি। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল এই গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করলেও তারা সুবিধা করতে পারবে না।”
অবসরপ্রাপ্ত কিছু সেনাকর্মকর্তার বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এসব প্রোপাগান্ডার উদ্দেশ্য জনগণ বুঝতে পারে। জনগণ এসব তথ্যে বিশ্বাস করে না। সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।”
কর্নেল শফিকুল আরও জানান, জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা হবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে সেনাবাহিনী সারাদেশে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবে। তিনি নির্বাচনের সময় সকল পক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন এবং জনগণের প্রতি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি সেনাবাহিনী দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে নিজেদের প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ছড়ানো গুজবের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর এই কঠোর অবস্থান এবং জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি জনগণের মধ্যে আস্থা ও স্বচ্ছতার বার্তা দিচ্ছে।





