মৎস্য সম্পদ রক্ষায় গবেষণায় জোর, হাওড় ধ্বংসে কঠোর হুঁশিয়ারি: ফরিদা আখতার
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানিয়েছেন, বাংলাদেশের মৎস্য খাতে বিজ্ঞানীদের অবদান প্রশংসনীয়, তবে টেকসই মৎস্য সম্পদ রক্ষায় গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) তিন দিনব্যাপী তৃতীয় আন্তর্জাতিক কনফারেন্স ফর সাসটেইনেবল ফিশারিজ (আইসিএসএফ)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর তাগিদ দেন। এই সম্মেলনের লক্ষ্য টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি বিনিময় এবং অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা।
ফরিদা আখতার বলেন, অতিরিক্ত মাছ শিকার এবং চায়না জাল বা ট্রল ডোরের মতো অবৈধ পদ্ধতি মৎস্য সম্পদের জন্য হুমকি। তিনি বলেন, “এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর।” তিনি আরও জানান, শীতকালে কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার বর্ষায় পানিতে মিশে মাছের ক্ষতি করে। এই সমস্যা মোকাবেলায় কৃষিতে বালাইনাশকের ব্যবহার কমাতে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ইলিশ উৎপাদন হ্রাসের বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ, অপর্যাপ্ত বৃষ্টি এবং নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় ইলিশ আহরণ কমেছে, যা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি মিঠা পানির মাছ চাষের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে মিঠা পানির মৎস্য চাষ বাড়াতে হবে। নদী, হাওড় ও প্রজনন ক্ষেত্রগুলো সংরক্ষণে বিশেষ জোর দিতে হবে।”
হাওড় রক্ষার বিষয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, “অপরিকল্পিত সড়ক বা স্থাপনা নির্মাণে হাওড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করা যাবে না।” তিনি হাওড় গবেষণা ইনস্টিটিউট ও মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটকে সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেন।





