জীবনযাপন ফিচার ভ্রমণ

ভ্রমণের আগে জেনে নিন প্লেনে যে সব খাবার নিষিদ্ধ!

প্লেনে ভ্রমণের সময় অনেকেই পছন্দের খাবার সঙ্গে নিতে চান, কিন্তু বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও কাস্টমস আইনের কারণে সব খাবার বহন করা যায় না। কিছু খাবার আকার, গন্ধ বা নিরাপত্তার কারণে নিষিদ্ধ বা সীমিত। ঝামেলা এড়াতে জেনে নিন, কোন খাবার প্লেনে নেওয়া উচিত নয়।

১. তরল খাবার ও পানীয়: পানি, জুস, দুধ, স্যুপ, তরকারি বা ঝোলজাতীয় খাবার ১০০ মিলিলিটারের বেশি হলে হ্যান্ড লাগেজে নেওয়া নিষেধ। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, এগুলো ছোট স্বচ্ছ পাত্রে বিশেষ পদ্ধতিতে প্যাক করতে হয়। চেক-ইন লাগেজে নিলেও কঠোর পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হতে পারে।

২. তীব্র গন্ধযুক্ত খাবার: শুঁটকি, কাঁচা পেঁয়াজ, মসলাযুক্ত ভুনা গোশত, শুকনা চাটনি বা এমন খাবার যার গন্ধ অন্য যাত্রীদের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে, তা বহন নিরুৎসাহিত। কিছু এয়ারলাইন এসব খাবার প্লেনে খাওয়া বা বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে।

৩. কাঁচা ফলমূল ও সবজি: আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে আম, কাঁঠাল, কলা বা কাঁচা সবজি বহন অনেক দেশে নিষিদ্ধ। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো জৈব সুরক্ষা আইনে এসবের ওপর কঠোর। এগুলো বহন করলে কাস্টমসে জানানো বাধ্যতামূলক, অন্যথায় জরিমানা বা খাবার বাজেয়াপ্ত হতে পারে।

৪. দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য: কাঁচা দুধ, ঘি, দই বা ছানার মতো অপ্রক্রিয়াজাত দুগ্ধজাত খাবার আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে সীমিত। জীবাণু বা রোগ বহনের ঝুঁকির কারণে এসব নিষিদ্ধ হতে পারে। প্রক্রিয়াজাত পনির বা সিল করা দুগ্ধজাত পণ্য কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদিত, তবে নিয়ম জেনে নিতে হবে।

৫. বেশি পরিমাণে রান্না করা খাবার: হাঁড়ি বা বড় পাত্রে ভাত, খিচুড়ি, তরকারি বা ঝোলজাতীয় খাবার বহন নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে নিষিদ্ধ। এগুলো তরল বা আধা-তরল হলে বিমানবন্দরে ফেলে দিতে বলা হতে পারে।

৬. অজ্ঞাত উৎসের প্যাকেটজাত খাবার: ঘরে তৈরি বা নিজে প্যাক করা খাবার, যার উৎস বা উপাদান স্পষ্ট নয়, তা নিরাপত্তা পরীক্ষায় আটকে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে এ ধরনের খাবার বহন এড়িয়ে চলাই ভালো। বাণিজ্যিকভাবে সিল করা খাবারে কম ঝামেলা হয়।

৭. বাণিজ্যিক পরিমাণে খাদ্যদ্রব্য: শুকনা মাছ, মসলা, চাল বা অন্যান্য খাবার বড় পরিমাণে নিলে কাস্টমসে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে শুল্ক বা ক্লিয়ারেন্সের জটিলতা তৈরি হতে পারে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সীমিত পরিমাণে নেওয়াই নিরাপদ।

৮. মাংস ও মাংসজাত পণ্য: কাঁচা বা রান্না করা মাংস, সসেজ বা হ্যামের মতো পণ্য অনেক দেশে নিষিদ্ধ। জৈব সুরক্ষা এবং রোগ ছড়ানোর ঝুঁকির কারণে এসব কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।

প্লেনে খাবার নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের নীতিমালা এবং গন্তব্য দেশের কাস্টমস নিয়ম পড়ে নিন। শুকনা খাবার যেমন বিস্কুট, চকলেট, বা সিল করা স্ন্যাকস বহন করা সাধারণত নিরাপদ। তরল, তীব্র গন্ধযুক্ত বা জৈব ঝুঁকিপূর্ণ খাবার এড়িয়ে চলুন। ভালোভাবে প্যাক করা, স্বচ্ছ পাত্রে রাখা এবং প্রয়োজনে কাস্টমসে ঘোষণা দিলে ঝামেলা কমবে।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার