ট্রাম্পের কূটনীতির জয়: ভারত-পাকিস্তানের পারমাণবিক যুদ্ধের সম্ভাবনা কি কমলো?
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে বিশ্ব যখন উদ্বেগে নিমজ্জিত, তখন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন, ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতার ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ যুদ্ধের পথ থেকে সরে এসেছে।
সংকটের শুরু হয় গত মার্চ মাসে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার মাধ্যমে, যেখানে ১৮ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক একটি জঙ্গি গোষ্ঠীকে দায়ী করে এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের হুমকি দেয়। পাকিস্তানও পাল্টা সামরিক প্রস্তুতি নেয়, এবং উভয় দেশের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও সীমান্তে সংঘর্ষ বৃদ্ধি পায়। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে আশঙ্কা তীব্র হয়।
ট্রাম্প প্রশাসন গত এপ্রিল থেকে উভয় দেশের নেতৃত্বের সঙ্গে গোপন আলোচনা শুরু করে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘের মহাসচিবের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি শান্তি সমঝোতা তৈরি হয়। গত ১২ মে ভারত ও পাকিস্তান একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, এবং সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দেয়।
ট্রাম্প তার বিবৃতিতে বলেন, “আমরা ভারত ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে কাজ করে একটি বিপর্যয় রোধ করেছি। এটি আমাদের কূটনীতির জয়।” তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি আলোচনার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে কাজ করবে।
তবে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী শান্তির নিশ্চয়তা দেয় না। কাশ্মীর ইস্যু এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস এখনও মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত ও পাকিস্তানের জনগণ এই কূটনৈতিক সাফল্যকে স্বাগত জানালেও, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি।
এই ঘটনা বিশ্ব নেতাদের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের ঝুঁকি এবং আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব পুনরায় সামনে এনেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপে একটি সম্ভাব্য পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা প্রশমিত হয়েছে। গত ১০ মে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে উভয় দেশ যুদ্ধের পথ থেকে সরে আসে, যার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ওয়াশিংটন।
এই সংকটের সূত্রপাত হয় গত ২২ এপ্রিল ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পাহালগামে একটি সন্ত্রাসী হামলার মধ্য দিয়ে, যেখানে ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে এবং ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালায়। পাকিস্তানও পাল্টা হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। উভয় দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও ড্রোন যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের জন্ম দেয়।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ এপ্রিল মাসে সতর্ক করে বলেছিলেন, ভারতের সামরিক হামলা আসন্ন। এই সময় ভারত ইন্দাস জলচুক্তি স্থগিত করে, যা পাকিস্তানের জন্য পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে এবং পরিস্থিতিকে ‘যুদ্ধের কাজ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।





