“শ্রমিকদের ন্যায্য-আইনসঙ্গত দাবি পূরণে এই সরকার কাজ করবে”
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া বলেছেন, বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প ও গার্মেন্টস খাত যে উন্নতি করেছে তা নিয়ে অনেকের ঈর্ষা আছে। আমরা এটাকে কঠোর হস্তে দমন করব। একইসঙ্গে শ্রমিকদের যেসব ন্যায্য এবং আইনসঙ্গত যেসব দাবি আছে সেগুলো পূরণেও এই সরকার কাজ করবে।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
আসিফ বলেন, আরএমজি এবং নন-আরএমজি উভয় ক্ষেত্রে কিছু শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। আমাদের শ্রমিকদের কিছু দাবি আছে। গত ফ্যাসিবাদি সরকার একপেশে যে আচরণ করেছে এবং গত বছর আমরা দেখেছি মজুরি নির্ধারণ আন্দোলনে কিভাবে গুলি করে ৪ জন শ্রমিককে হত্যা করা হয়েছে। নিপীড়নমূলক মামলা দেয়া হয়েছে শ্রমিকদের নামে। আমরা এই সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য এবং আইনসঙ্গত সকল দাবি পূরণে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন, ২০২৩ সালে মজুরি আন্দোলনে শ্রমিকদের নিপীড়নমূলক এবং মিথ্যা যেসব মামলা দেয়া হয়েছিল, সেসব মামলা তুলে নেয়ার ব্যাপারে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হচ্ছে। সেই মামলাগুলো দ্রুত তুলে নেয়ার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বকেয়া বেতন নিয়ে যে শ্রমিক বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে, আমরা ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন মালিক পক্ষ বকেয়া বেতন পরিশোধ করে। তার জন্য সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। গতকাল দুইটা এবং আজ একটাসহ তাদের সঙ্গে তিনটি মিটিং হয়েছে। তারা সকলেই ঐক্যমত পোষন করেছেন শ্রমিকদের কিছু দাবি-দাওয়া তো আছেই, এর পাশাপাশি বহিরাগত যাদের শ্রমি ও শিল্পের সঙ্গে সম্পর্ক নেই, এমন কিছু লোকজন দেখা যাচ্ছে, যারা হেলমেট পরে এবং হাফপ্যান্ট পরে বিভিন্ন কারখানায় ঢিল ছুড়ছে, হামলা করছে।
আসিফ বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই এ ধরনের যারা দুষ্কৃতিকারী এবং বহিরাগতরা এসে দেশের শিল্প ধ্বংসের মতো পাঁয়তারা এবং ষড়যন্ত্র করছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। শ্রমিকদের যে ন্যায্য দাবি-দাওয়া আছে, সেগুলোর বিষয়ে আমরা আলোচনা করছি শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে এবং তাদের যেগুলো লং টার্ম দাবি-দাওয়া আছে, সেগুলো সমাধানের ব্যাপারে আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করে যাব। কিন্তু যারা ষড়যন্ত্র করছে এবং দুষ্কৃতিকারী যারা আছে, যাদেরকে চিহ্নিত করা গেছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, আমরা এটাও জানতে পেরেছি ঝুট ব্যবসা দখলের নামে বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাস করা হচ্ছে এবং কোপাকুপির মতো ঘটনা ঘটেছে। ঝুট ব্যবসা দখলের জন্য সেখানে কিছু আনরেস্ট তৈরি করা হচ্ছে এবং এখানে কিছু রাজনৈতিক দলের নেতা অংশগ্রহণ করছেন। সে ব্যাপারটি সমাধানের জন্য সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে প্রায় ৭ কোটি ৩০ লাখ শ্রমিক আছেন। তাদের কাজের মাধ্যমে, শ্রমের মাধ্যমে আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল আছে। গত ফ্যাসিবাদি সরকারের আমলে লাখ লাখ কোটি টাকা এ দেশ থেকে পাচার হয়েছে, অনেক দুর্নীতি হয়েছে, তারপরও দেশের অর্থনীতির এখনো পর্যন্ত সচল অবস্থায় আছে আমাদের আরএমজি এবং নন-আরএমজি সেক্টরের যে শ্রমিকরা কাজ করে যাচ্ছেন এই বিকশিত হওয়ার কারণে।
শ্রম উপদেষ্টা বলেন, এখন নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করে শ্রমিক বিক্ষোভকে উসকে দিয়ে এবং এর মধ্যে বহিরাগত অনুপ্রবেশ করে আমাদের এই বাজার দখলের এক ধরনের পাঁয়তারা চলছে। আমরা এটাকে কঠোর হস্তে দমন করবো। একই সঙ্গে শ্রমিকদের যেসব ন্যায্য এবং আইনসঙ্গত যেসব দাবি আছে সেগুলো পূরণেও এই সরকার কাজ করবে।
দেশের গার্মেন্টেসের বাজার কারা দখল করতে চায়? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে অসিফ বলেন, আমাদের শুধু গার্মেন্টস না, নন-আরএমজি সেক্টরের যে ওষুধ শিল্প, আমাদের ওষুধ শিল্প ইর্ষনীয় ভাবেই ভালো করেছে বিগত বছরগুলোতে এবং ওষুধে আমরা মোটামুটি স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং আমরা বিদেশেও রফতানি করছি। আমরা দেখেছি গত ৫০ বছরে সেখানে (ওষুধ শিল্পে) কোনো আনরেস্ট হয়নি। তারা সব ধরনের স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলে এবং শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে সেখানে কখনো কোনো আনরেস্ট হয়নি। কিন্তু এখন আমরা দেখতে পারছি কিছু বহিরাগত লোকজন ঢুকে সেখানে সমস্যা তৈরি করার চেষ্টা করছে। আমরা দেখেছি যে সবগুলো ওষুধ কারখানাগুলোতে একই ধরনের দাবি। সেখানে অনেকগুলো অযৌক্তিক দাবি আমরা দেখেছি।
আরও পড়ুনঃ পাঁচ মামলায় খালাস পেলেন খালেদা জিয়া





