৩০ আসনে ভোট পুনর্গণনা ও শপথ স্থগিতে ইসিতে জামায়াতের আবেদন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত ৩০টি আসনে ব্যাপক কারচুপি, জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে সেসব আসনে ভোট পুনর্গণনা এবং সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। তিনি বলেন, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন ছিল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে প্রথমবারের মতো এই ভোট হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও জামায়াতে ইসলামী ও তার মিত্ররা ১১ দলীয় জোট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই কিছু আসনে অনিয়মের অভিযোগ উঠতে শুরু করে।
জামায়াতের দাবি, এখন পর্যন্ত ৩০টি আসনের কারচুপির প্রমাণ তাদের কাছে এসেছে। আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ চলছে, যা পরবর্তীতে গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হবে।
মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, কয়েকটি আসনে ভোররাতে তড়িঘড়ি করে ফল ঘোষণা করা হয়েছে, যা সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ৫ থেকে ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে যেসব আসনে ফল উল্টে গেছে, সেখানে কারচুপির ঘটনা বেশি। দলের নেতাকর্মীরা মাঠ থেকে যে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে, তাতে জাল ভোট, ব্যালট পেপার ছিনতাই, প্রিসাইডিং অফিসারদের চাপ প্রয়োগসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এসব অনিয়মের কারণে জনগণের ভোটের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে।
নির্বাচনের পরদিন থেকেই জামায়াতের পক্ষ থেকে কারচুপির অভিযোগ উঠলেও আজকের সংবাদ সম্মেলনে এটি আরও সুনির্দিষ্ট রূপ নিয়েছে। দলটি এর আগে ১১ দলীয় জোটের বৈঠক করে একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিল। এখন তারা আইনি পথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদনের পাশাপাশি প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন কীভাবে এই দাবির জবাব দেয়, তা এখন দেখার বিষয়। অনেকে মনে করছেন, নতুন সরকার গঠনের আগে এমন অভিযোগ সমাধান না হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। জামায়াতের এই পদক্ষেপকে কেউ কেউ নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করার কৌশল হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ বলে মনে করছেন।





