হরমুজের দরজা বন্ধ থাকলে বাড়তে পারে জ্বালানি ব্যয়, চাপে বিশ্ব অর্থনীতি
হরমুজ প্রণালী কবে স্বাভাবিকভাবে চালু হবে—এ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় বিশ্ববাজারে এর প্রভাব পড়েছে সরাসরি। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
সোমবারই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ লাফ দেয়। মঙ্গলবারও দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকে। বাজারে মূল উদ্বেগ এখন হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহন কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে।
আলোচনার জটিলতা আরও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি ক্ষতিপূরণ দাবি। হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার সঙ্গে বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও অতীতের সংঘাত ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৮ ডলারে উঠে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও ৮২ ডলারের ওপরে অবস্থান করে। সোমবারের বড় উত্থানের পর এদিনও বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত ছিল।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় এর দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা আরও তীব্র হতে পারে। একই সঙ্গে বাড়তে পারে জ্বালানি পরিবহন ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ।
বিশ্লেষকদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। কূটনৈতিক সমাধানের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া গেলে তেলের বাজারে চাপ কিছুটা কমতে পারে। বিপরীতে আলোচনা আরও ভেস্তে গেলে জ্বালানির দামে নতুন করে বড় ধরনের উত্থান দেখা দিতে পারে।





