জাতীয় ফিচার

নবম পে স্কেল: এবার কি মিলছে চূড়ান্ত অনুমোদন?

জ্বালানি সংকট: অফিস সময় কমাল সরকার, নতুন সূচি কার্যকর শিগগিরই

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার বিষয় নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে আবারও নড়েচড়ে বসেছে সরকার। নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব এখন শেষ পর্যায়ের পর্যালোচনায় রয়েছে। সব ধরনের যাচাই-বাছাই শেষ হলে আগামী সপ্তাহ অথবা চলতি মাসের শেষ দিকে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব অনুমোদিত হলে পরবর্তী ধাপে প্রজ্ঞাপন জারির উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে নতুন বেতন কাঠামো ঠিক কোন তারিখ থেকে কার্যকর হবে, সেটি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে প্রস্তাব অনুমোদনের পর বাস্তবায়নের সময়সূচি নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে।

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এর আর্থিক চাপ। বেতন বাড়ানোর ফলে সরকারের নিয়মিত ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে বাজারে এর সম্ভাব্য প্রভাব এবং মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরির আশঙ্কাও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফও অতিরিক্ত সরকারি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বিবেচনায় পে স্কেল বাস্তবায়ন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তবে সরকার এখন পর্যন্ত বিষয়টি বাতিল বা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার পথে যায়নি। বরং দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কীভাবে এটি বাস্তবায়ন করা যায়, সেই পথ খোঁজা হচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে একবারে পুরো বেতন কাঠামো কার্যকর করার পরিবর্তে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এতে সরকারের ওপর তাৎক্ষণিক আর্থিক চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল চালুর পর প্রায় এক দশক ধরে নতুন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর হয়নি। এ সময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি পেলেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির কারণে নতুন পে স্কেলের দাবি ক্রমেই জোরালো হয়েছে।

এই দাবির প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে তাদের সুপারিশ জমা দেয়। কমিশনের প্রস্তাবে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর কথা বলা হয়। সুপারিশ অনুযায়ী, বেতন গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২১ এপ্রিল পে কমিশনের সুপারিশগুলো নতুন করে যাচাই করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির পর্যালোচনার পরই নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রস্তাবিত হারে বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় বড় আকারে বাড়তে পারে। তাই অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দিতে রাজস্ব আদায় বাড়ানো, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি।

সব মিলিয়ে নবম পে স্কেল নিয়ে এখন সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত কবে মন্ত্রিসভায় উঠবে, কী ধরনের পরিবর্তনসহ অনুমোদন পাবে এবং অনুমোদনের পর কবে থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী।

প্রতিবেদক

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র