স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের পথ বন্ধের চেষ্টা চলছে: রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র যেন ভবিষ্যতে কোনোভাবেই আত্মপ্রকাশ করতে না পারে, সেজন্য অধিকৃত পশ্চিম তীরে সর্বাত্মক অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র নিয়ে এই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আজ মঙ্গলবার মস্কোয় আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সংবাদ সম্মেলনে তিনি ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দিয়ে বিশ্বনেতাদের সতর্কবার্তা দেন। ল্যাভরভ স্পষ্ট করে বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অস্বীকার করে এই অঞ্চলে কখনোই শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গাজা উপত্যকার সংঘাত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি আড়ালে পড়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন সের্গেই ল্যাভরভ। সংবাদ সম্মেলনে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি সংকট নিয়ে আলোচনার সময় কোনোভাবেই পশ্চিম তীরের বর্তমান অবস্থাকে ভুলে যাওয়া বা উপেক্ষা করা চলবে না। সেখানে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এমন সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হলো একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে চিরতরে ধূলিসাৎ করে দেওয়া। অবৈধ বসতি স্থাপন এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর নানামুখী বিধিনিষেধ এই প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে।
মস্কোর পক্ষ থেকে বরাবরই দুই-রাষ্ট্র সমাধানের নীতিকে সমর্থন জানানো হয়েছে। ল্যাভরভ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি স্বাধীন ভূখণ্ড নিশ্চিত না করে সাময়িক কোনো যুদ্ধবিরতি বা চুক্তি এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা আনতে পারবে না। ক্রেমলিনের এই শীর্ষ কূটনীতিকের মতে, ফিলিস্তিন ইস্যুটির একটি ঐতিহাসিক ও আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তি রয়েছে, যা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কোনো পক্ষেরই নেই।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্বিচারিতা এবং নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে বলেন, একটি কার্যকর স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনই কেবল এই অঞ্চলের সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই সংকটকে ঝুলিয়ে রেখে মধ্যপ্রাচ্যের উন্নয়ন বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অবাস্তব। ল্যাভরভ জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে না দিলে কোনো কূটনৈতিক কৌশলই এ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সফল হবে না।
রাশিয়া মনে করে, সংকটের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনাগুলোকে কঠোরভাবে অনুসরণ করা উচিত। পরাশক্তিগুলোর একতরফা নীতি এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশের পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে এই সংকট দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ল্যাভরভ বিশ্বমঞ্চের প্রধান অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন ফিলিস্তিনি জনগণের রাষ্ট্র পাওয়ার মৌলিক অধিকারকে সম্মান জানান এবং সেই অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
রাশিয়া আগামী দিনগুলোতে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বিশ্বমঞ্চে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। মস্কো বিভিন্ন আঞ্চলিক পরাশক্তি ও আরব দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে, যাতে ফিলিস্তিনিদের অধিকার সুরক্ষায় একটি সম্মিলিত ফ্রন্ট গড়ে তোলা যায়। ল্যাভরভ তাঁর বক্তব্যের শেষাংশে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, রাশিয়া কোনো ধরনের উস্কানি বা একতরফা সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে না এবং তারা একটি বহুপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সংকটের অবসান চায়।





