সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল, নতুন অধ্যাদেশ জারি: ডিজিটাল সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ বাতিল করে নতুন একটি অধ্যাদেশ জারি করেছে, যা সাইবার স্পেসে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সাইবার অপরাধ শনাক্তকরণ, বিচার এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে। বুধবার (২১ মে) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী এই অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করেন।
নতুন এই অধ্যাদেশে সাইবার অপরাধের সংজ্ঞা, শাস্তি এবং প্রতিরোধের পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বাকস্বাধীনতা রক্ষার পাশাপাশি সাইবার হুমকি, হ্যাকিং, তথ্য চুরি এবং অনলাইন হয়রানির মতো অপরাধ মোকাবিলায় কঠোর ব্যবস্থার কথা বলে। অধ্যাদেশটি পুরনো আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো সংশোধন করে আরও স্বচ্ছ ও ন্যায্য প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কারণ এটি বাকস্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছিল। নতুন অধ্যাদেশে এই উদ্বেগগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, “এই অধ্যাদেশ ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করবে।”
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ড. রেজাউল করিম বলেন, “নতুন অধ্যাদেশ সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক কাঠামো প্রদান করবে। তবে, এর সফল বাস্তবায়নের জন্য পুলিশ ও বিচার বিভাগের প্রশিক্ষণ জরুরি।”
সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই অধ্যাদেশ নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ঢাকার একজন ফ্রিল্যান্সার নুসরাত জাহান বলেন, “অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে গিয়ে আমরা প্রায়ই সাইবার হুমকির মুখে পড়ি। এই অধ্যাদেশ আমাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করবে বলে আশা করি।”
তবে, কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করে বলেছেন, অধ্যাদেশের বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জিং হবে। আইনের অপব্যবহার রোধে সরকারকে কঠোর নজরদারি করতে হবে।
অধ্যাদেশটি আগামী সংসদ অধিবেশনে আইন হিসেবে পাসের জন্য উত্থাপিত হবে।





